ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ভারতে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্নব, উড়িষ্যায় রেড এলার্ট Logo পদত্যাগের আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় বসেছিলেন আসিফ মাহমুদ Logo লালমনিরহাটে লোকালয়ে বাঘের হানা, আহত ৩ Logo মিষ্টির শূন্য আসনে এমপি হচ্ছেন সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ঊষা Logo ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের ২ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬ Logo ল্যাঙ্কাশায়ারে অ্যান্ডারসনের ২৫ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি Logo বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সম্পর্কে ভালোবাসার পাল্লা কি সমান হওয়া জরুরি? Logo স্টারশিল্ড সচল হলেও ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের দাবি মাস্কের Logo ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে প্রশাসন ‘নিরপেক্ষ নয়’, সেনা মোতায়েন করুন: ইসিকে জামায়াত

ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের ২ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬

অপরাধ ডেস্ক: ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ এবং টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। সম্প্রতি রাতে শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দুজন এবং একজন আনসার সদস্য রয়েছেন। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শ্যামলীর এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফের সঙ্গে প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে আনসার সদস্য সোহেল রানার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত শনিবার সোহেল ওই ব্যবসায়ীকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর সোহেল ঘর থেকে বের হয়ে যান এবং পরে অন্যান্য আসামিরা এসে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালান। এ সময় অপহরণকারীরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং মারধর করে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসামিদের কবল থেকে বাঁচতে পরিবারকে ফোন করে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেন এবং ওই বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে আসামিরা তাকে একটি টয়োটা গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শেরেবাংলা নগর এলাকার শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে গাড়ি থামিয়ে আসামিরা চা খাওয়ার সময় ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান। এ সময় রাস্তায় শেরেবাংলা নগর থানার একটি টহল পুলিশ দলকে দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত তাদের কাছে গিয়ে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন এবং সহায়তা চান।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, শিশু হাসপাতালের নিকটবর্তী চেকপোস্টে ওই ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে সহায়তা চাইলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে। পরে পুলিশ সদস্যরা সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপহরণের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং ছয়জনকে আটক করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনায় আরও দুজন পলাতক আসামিসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর অভিযুক্তদের পরিচয় নিয়ে সাময়িকভাবে জটিলতা তৈরি হলেও সেনাসদরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়েও এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, মামলাটির তদন্ত চলছে এবং জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

ভারতে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্নব, উড়িষ্যায় রেড এলার্ট

ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের ২ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশিত ০৯:০৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ এবং টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। সম্প্রতি রাতে শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দুজন এবং একজন আনসার সদস্য রয়েছেন। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শ্যামলীর এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফের সঙ্গে প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে আনসার সদস্য সোহেল রানার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত শনিবার সোহেল ওই ব্যবসায়ীকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর সোহেল ঘর থেকে বের হয়ে যান এবং পরে অন্যান্য আসামিরা এসে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালান। এ সময় অপহরণকারীরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং মারধর করে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসামিদের কবল থেকে বাঁচতে পরিবারকে ফোন করে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেন এবং ওই বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে আসামিরা তাকে একটি টয়োটা গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শেরেবাংলা নগর এলাকার শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে গাড়ি থামিয়ে আসামিরা চা খাওয়ার সময় ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান। এ সময় রাস্তায় শেরেবাংলা নগর থানার একটি টহল পুলিশ দলকে দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত তাদের কাছে গিয়ে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন এবং সহায়তা চান।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, শিশু হাসপাতালের নিকটবর্তী চেকপোস্টে ওই ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে সহায়তা চাইলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে। পরে পুলিশ সদস্যরা সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপহরণের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং ছয়জনকে আটক করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনায় আরও দুজন পলাতক আসামিসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর অভিযুক্তদের পরিচয় নিয়ে সাময়িকভাবে জটিলতা তৈরি হলেও সেনাসদরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়েও এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, মামলাটির তদন্ত চলছে এবং জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।