ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০২৬ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের দিক থেকে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক তুলে ধরা হয়েছে। তবে কেবল মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকলেই মানুষের জীবনযাত্রার মান ভালো হয় এমন নয়, বরং এর জন্য মূল্যস্ফীতি ও আয়বৈষম্যের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে দুই হাজার ৮৮৬ মার্কিন ডলার এবং ভারতের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে দুই হাজার ৭৪৯ ডলারে। প্রায় সতেরো কোটি জনসংখ্যার এই দেশটিতে গত দুই দশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় ও নারীদের কর্মসংস্থান বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে একই সময়ে ভারতের মোট অর্থনীতির আকার বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপির হিসাব অনুযায়ী অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা যায়, যেখানে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে ভারতে গড় ভোক্তা মূল্যস্ফীতি পাঁচ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা আট দশমিক সাত শতাংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের অর্থনীতিতে প্রযুক্তি ও সেবা খাতের পাশাপাশি বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে, আর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হলো রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে মানুষের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বা সম্পদ বণ্টনের চিত্র পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং সম্পদ সীমিত মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার ওপরও ডলারের হিসাবে মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ নির্ভর করে।

জনপ্রিয়

পিএসসির সদস্য হলেন জাবি শিক্ষক শামীমা সুলতানা

মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ

প্রকাশিত ১১:০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০২৬ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের দিক থেকে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক তুলে ধরা হয়েছে। তবে কেবল মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকলেই মানুষের জীবনযাত্রার মান ভালো হয় এমন নয়, বরং এর জন্য মূল্যস্ফীতি ও আয়বৈষম্যের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে দুই হাজার ৮৮৬ মার্কিন ডলার এবং ভারতের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে দুই হাজার ৭৪৯ ডলারে। প্রায় সতেরো কোটি জনসংখ্যার এই দেশটিতে গত দুই দশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় ও নারীদের কর্মসংস্থান বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে একই সময়ে ভারতের মোট অর্থনীতির আকার বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপির হিসাব অনুযায়ী অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা যায়, যেখানে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে ভারতে গড় ভোক্তা মূল্যস্ফীতি পাঁচ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা আট দশমিক সাত শতাংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের অর্থনীতিতে প্রযুক্তি ও সেবা খাতের পাশাপাশি বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে, আর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হলো রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে মানুষের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বা সম্পদ বণ্টনের চিত্র পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং সম্পদ সীমিত মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার ওপরও ডলারের হিসাবে মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ নির্ভর করে।