আইন-আদালত ডেস্ক: এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অতীতে যেভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, বর্তমানেও সেই সুযোগ বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই শিক্ষকদের অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনি বাধা নেই। সম্প্রতি ঝিনাইদহ প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি নতুন ভবন উদ্বোধন করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে এ সময় তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা উচিত। এর আগে সকালে তিনি ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। উক্ত সভায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতাল পরিচালনা ও সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে সেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান সংবাদকর্মীরা। জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান যে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে কেউ কোনো কাজ করলে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও যোগ করেন যে, দেশের প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে কেউ অবস্থান করতে পারে না। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা ধোঁয়াশার অবসান ঘটল। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা তাদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার চর্চা করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ অব্যাহত রাখতে পারবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের এই অংশগ্রহণ স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একইসঙ্গে সরকারের এই নীতিগত অবস্থান শিক্ষক সমাজকে সন্তুষ্ট করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





































