প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রযুক্তি খাতের বাইরের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক আয় এবং মুনাফায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব এখনো দৃশ্যমান হয়নি। বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ এবং ব্যাপক প্রচার চালানো সত্ত্বেও এই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ টরস্টেন স্লক সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। টেকক্রাঞ্চের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই বিশদ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষক তার গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক থেকে প্রযুক্তি খাতের সাতটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে বাকি ৪৯৩টি কোম্পানিকে বিবেচনা করেছেন। স্লকের এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে এসব কোম্পানির মুনাফার হার এবং কর্মীপ্রতি আয় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই জায়গায় আটকে রয়েছে। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুমুখী ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা বেড়েছে এমন কোনো জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্লক মন্তব্য করেছেন যে বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও এ প্রযুক্তি করপোরেট ব্যবসায় কোনো কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সুফল বয়ে আনেনি।
তবে প্রযুক্তি খাতের বাইরের কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি জায়ান্টদের তুলনায় এআই ব্যবহারের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দিতে চাননি এই অর্থনীতিবিদ। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা ধীরে ধীরে আরও সহজলভ্য হলেও তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আয় ও মুনাফা বাড়ানো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বেশ কঠিন। শুধুমাত্র কম খরচে তথ্য বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা থাকলেই যেকোনো ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত হতে পারে না।
স্লক আরও উল্লেখ করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চমৎকার ক্যালকুলেটরের মতো কাজ করলেও ব্যবসার ক্ষেত্রে বিচারবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই প্রযুক্তি জবাবদিহিতা, বিশ্বাস, কোম্পানির সংস্কৃতি, অলিখিত রেওয়াজ কিংবা নৈতিকতার বিষয়টি বুঝতে পারে না। মূলত এই মানবিক দিকগুলোই ব্যবসায়িক সুনাম রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে আয় বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে শুধু এআই প্রযুক্তিতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করলেই যে কোম্পানির সামগ্রিক মুনাফা নিশ্চিতভাবে বেড়ে যাবে, তা বলা যায় না।



































