ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আমার গান ভালো না লাগলে শুনবেন না, কেন বললন সেলেনা গোমেজ Logo থাইল্যান্ডকে আমদানি বাড়ানো, শুল্ক কমানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের Logo কুবিতে এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রামের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাসের ব্যবস্থা জাবি প্রশাসনের Logo সোডা-তেল-চিনি দিয়ে তৈরি দুধ, বিক্রি হয় দোকানে দোকানে Logo ‘​বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকা’ এর সদস্য সংগ্রহ চলছে Logo জাকসু নির্বাচন কমিশন বিলুপ্তির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শিবিরের অবস্থান কর্মসূচি Logo সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী Logo জাবিতে ২৭ নভেম্বর ‘১৬ তম প্রজাপতি মেলা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে Logo গোবিপ্রবির ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ঈশিতা রায়

জাবিতে ফয়জুন্নেছা হলে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ; প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল প্রাধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম মোস্তফার কক্ষে তালা দিয়েছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকায় তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর), রাত দশটার দিকে গোলাম মোস্তফার কক্ষে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর হলের মূল ফটকের সামনে এসে আন্দোলন করতে থাকেন তারা। এসময় শিক্ষার্থীদের ‘এক ,দুই ,তিন ,চার প্রভোস্ট তুই গদি ছাড়’, ‘দফা এক ,দাবি এক, প্রভোস্টের পদত্যাগ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রাধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় অবহেলার স্বীকার হন তারা। হলের ক্যান্টিনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে গড়িমসি, হলের নিরাপত্তা জোরদার না করা, সময়মত হলের বিদ্যুতের লাইন ঠিক না করা, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ না করাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তার (প্রাধ্যক্ষ) বিরুদ্ধে একগাদা অভিযোগ আছে আমাদের। আমাদের হলে সম্প্রতি কয়েকবার ক্যান্টিন মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আমাদের ক্যান্টিন নেই৷ আমরা অনেকদিন থেকেই দাবি জানাচ্ছি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যাচাই বাছাই করে কাওকে দায়িত্ব দেওয়ার৷ তিনি আমাদের বলেন মেয়েরা নাকি ক্যান্টিনে খায় না, কেউ আসতেও চায় না। আমাদের প্রতিবেলা অন্য হলে গিয়ে খেতে হয়।’

৫৪ তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাদের হলে চোর ধরা পরে। এরপর প্রোভোস্ট স্যারকে আমরা হলের পিছনের দিকে এলইডি লাইট ও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর দাবি জানাই। সেটাও তিনি করেননি। নিরাপত্তার নামে শুধু পুরোনো হলুদ বাতি লাগিয়েছেন। এমনকি কিছুদিন আগে আমাদের হলের এক মেয়ে নিখোঁজ হলে আমরা ফুটেজ দেখতে চাইলেও দেখাননি।’

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের হলে মানুষ থাকার মতো পরিবেশ নেই। একটা রান্নাঘর নাই, এখানে যে ইলেকট্রিসিটির লাইনগুলো আছে এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমনকি এই ইলেকট্রিসিটির লাইন থেকে কয়েকটি রুমে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে। হল প্রাধ্যক্ষকে বারবার এসব জানানোর পরেও তিনি বাজেটের স্বল্পতা দেখিয়ে এড়িয়ে গেছেন।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার সাথে কথা বলতে চাইলেও তিনি দেখা করেননি। হল সংসদের সাথেও প্রাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা মাত্র তিনবার সভা করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতেও প্রাধ্যক্ষর সাথে শিক্ষার্থীদের একটি সভা করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলোর বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষে ড. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘হলের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ইলেক্ট্রিক বোর্ডের কাজ চলমান রয়েছে৷ ইতিমধ্যে চার-পাঁচটি রুমে কাজ করেছে৷ এর পাশাপাশি বিদ্যুতের তারও পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক রাশেদা খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীরা ৯ টায় মিটিং করবে বলে স্যারকে আসতে বলেছিলেন। এ ব্যাপারে আমি স্যারের সাথে যোগাযোগ করেছি স্যার বলেছেন, ‘আমাদের একজন ওয়ার্ডেন শিক্ষক অসুস্থ, তিনি না থাকায় মিটিংটা করা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। আমরা নিজেরা শিক্ষকদের মধ্যে কথাবার্তা বলে তারপর আমরা স্টুডেন্টদের সাথে বলব। ওদের যে দাবিদাওয়া সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলব।’ এর মধ্যে ১০টার দিকে শুনতে পাই শিক্ষার্থীরা প্রোভোস্ট রুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে স্যারের নির্দেশেই আমি হলে আসি।

ক্যান্টিনের সমস্যার বিষয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের ক্যান্টিন চালাতে কেউ আসতে চায় না। কারণ তাদের লাভ হয় না। এটা একটা বড় সমস্যা। এখন ক্যান্টিন যে চালাবে তার সুবিধা অসুবিধাটা দেখতে হবে। সে তার যদি লাভ না হয় তাহলে আমি তো জোর করে ধরে বেধে রাখতে পারি না।’

মিটিংয়ে না বসার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সাথে হল প্রশাসনের একটা গ্রুপ আছে। গত দুইদিন ব্যস্ত থাকায় আমি গ্রুপের ম্যাসেজ দেখতে পাইনি। হলের ওয়ার্ডেন অসুস্থ, হাউজ টিউটরের ছোট বাচ্চা আছে। আমি তাদেরকে পাইনি৷ তাদেরকে নিয়েই তো আমি মিটিং এ বসবো। আমি শিক্ষার্থীদের বলেছি আমরা শুক্রবার বসবো।’

 

জনপ্রিয়

আমার গান ভালো না লাগলে শুনবেন না, কেন বললন সেলেনা গোমেজ

জাবিতে ফয়জুন্নেছা হলে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ; প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি

প্রকাশিত ০৯:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল প্রাধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম মোস্তফার কক্ষে তালা দিয়েছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকায় তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর), রাত দশটার দিকে গোলাম মোস্তফার কক্ষে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর হলের মূল ফটকের সামনে এসে আন্দোলন করতে থাকেন তারা। এসময় শিক্ষার্থীদের ‘এক ,দুই ,তিন ,চার প্রভোস্ট তুই গদি ছাড়’, ‘দফা এক ,দাবি এক, প্রভোস্টের পদত্যাগ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রাধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় অবহেলার স্বীকার হন তারা। হলের ক্যান্টিনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে গড়িমসি, হলের নিরাপত্তা জোরদার না করা, সময়মত হলের বিদ্যুতের লাইন ঠিক না করা, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ না করাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তার (প্রাধ্যক্ষ) বিরুদ্ধে একগাদা অভিযোগ আছে আমাদের। আমাদের হলে সম্প্রতি কয়েকবার ক্যান্টিন মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আমাদের ক্যান্টিন নেই৷ আমরা অনেকদিন থেকেই দাবি জানাচ্ছি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যাচাই বাছাই করে কাওকে দায়িত্ব দেওয়ার৷ তিনি আমাদের বলেন মেয়েরা নাকি ক্যান্টিনে খায় না, কেউ আসতেও চায় না। আমাদের প্রতিবেলা অন্য হলে গিয়ে খেতে হয়।’

৫৪ তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাদের হলে চোর ধরা পরে। এরপর প্রোভোস্ট স্যারকে আমরা হলের পিছনের দিকে এলইডি লাইট ও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর দাবি জানাই। সেটাও তিনি করেননি। নিরাপত্তার নামে শুধু পুরোনো হলুদ বাতি লাগিয়েছেন। এমনকি কিছুদিন আগে আমাদের হলের এক মেয়ে নিখোঁজ হলে আমরা ফুটেজ দেখতে চাইলেও দেখাননি।’

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের হলে মানুষ থাকার মতো পরিবেশ নেই। একটা রান্নাঘর নাই, এখানে যে ইলেকট্রিসিটির লাইনগুলো আছে এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমনকি এই ইলেকট্রিসিটির লাইন থেকে কয়েকটি রুমে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে। হল প্রাধ্যক্ষকে বারবার এসব জানানোর পরেও তিনি বাজেটের স্বল্পতা দেখিয়ে এড়িয়ে গেছেন।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার সাথে কথা বলতে চাইলেও তিনি দেখা করেননি। হল সংসদের সাথেও প্রাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা মাত্র তিনবার সভা করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতেও প্রাধ্যক্ষর সাথে শিক্ষার্থীদের একটি সভা করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলোর বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষে ড. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘হলের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ইলেক্ট্রিক বোর্ডের কাজ চলমান রয়েছে৷ ইতিমধ্যে চার-পাঁচটি রুমে কাজ করেছে৷ এর পাশাপাশি বিদ্যুতের তারও পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক রাশেদা খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীরা ৯ টায় মিটিং করবে বলে স্যারকে আসতে বলেছিলেন। এ ব্যাপারে আমি স্যারের সাথে যোগাযোগ করেছি স্যার বলেছেন, ‘আমাদের একজন ওয়ার্ডেন শিক্ষক অসুস্থ, তিনি না থাকায় মিটিংটা করা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। আমরা নিজেরা শিক্ষকদের মধ্যে কথাবার্তা বলে তারপর আমরা স্টুডেন্টদের সাথে বলব। ওদের যে দাবিদাওয়া সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলব।’ এর মধ্যে ১০টার দিকে শুনতে পাই শিক্ষার্থীরা প্রোভোস্ট রুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে স্যারের নির্দেশেই আমি হলে আসি।

ক্যান্টিনের সমস্যার বিষয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের ক্যান্টিন চালাতে কেউ আসতে চায় না। কারণ তাদের লাভ হয় না। এটা একটা বড় সমস্যা। এখন ক্যান্টিন যে চালাবে তার সুবিধা অসুবিধাটা দেখতে হবে। সে তার যদি লাভ না হয় তাহলে আমি তো জোর করে ধরে বেধে রাখতে পারি না।’

মিটিংয়ে না বসার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সাথে হল প্রশাসনের একটা গ্রুপ আছে। গত দুইদিন ব্যস্ত থাকায় আমি গ্রুপের ম্যাসেজ দেখতে পাইনি। হলের ওয়ার্ডেন অসুস্থ, হাউজ টিউটরের ছোট বাচ্চা আছে। আমি তাদেরকে পাইনি৷ তাদেরকে নিয়েই তো আমি মিটিং এ বসবো। আমি শিক্ষার্থীদের বলেছি আমরা শুক্রবার বসবো।’