ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বিপর্যয় সামাল দিয়ে সেঞ্চুরি মিঠুন ও সোহানের Logo ইরানে ৪ নভেম্বর নাগাদ সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র Logo বাড়িতে ডিজে পার্টি, পুলিশের অভিযান, সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত Logo দাদন ব্যাবসায়ীর ফাঁদে সর্বশান্ত শতাধিক পরিবার, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন Logo কালিয়াকৈরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ Logo ছোট দলের মধ্যে পোস্ট শেয়ারে মেটার ‘থ্রেডস ফ্রেন্ডস’ Logo ইংরেজি ভার্সনে পাসের হার ১০০, গড় পাসের হার ৯৯.৮৩ শতাংশ Logo যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ভুয়া জরিপের ফাঁদ, আস্থার সংকট Logo কামিন্দুর ‘প্রথম’ সেঞ্চুরি Logo কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান

দাদন ব্যাবসায়ীর ফাঁদে সর্বশান্ত শতাধিক পরিবার, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

অপরাধ ডেস্ক: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চড়া সুদের দাদন ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন শতাধিক পরিবার। চক্রবৃদ্ধি সুদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। মূল টাকার কয়েকগুণ পরিশোধ করার পরেও তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন করে আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গত ৩১ অক্টোবর নীলফামারী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রায় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, পারিবারিক ও সাংসারিক প্রয়োজনে তারা বাধ্য হয়ে রিপন মিয়ার কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ঋণ নেওয়ার সময় গ্যারান্টি হিসেবে তাদের কাছ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ফাঁকা চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর রেখে নেওয়া হতো। পরবর্তীতে আসল ও সুদের টাকা পুরোপুরি পরিশোধ করা সত্ত্বেও ওই চেকগুলো ফেরত দেওয়া হতো না। বরং চক্রবৃদ্ধি সুদের হিসাব দেখিয়ে চেকে মনগড়া অংক বসিয়ে আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করতেন ওই দাদন ব্যবসায়ী। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।

উত্তর দুরাকুঠি গ্রামের পল্লি চিকিৎসক গাউসুল আজম মিস্টু জানান, তিনি মাত্র বিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরেও তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয়েছে। মাগুরা ইউনিয়নের তাসকিনা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীর নামে সাড়ে চার লক্ষ টাকার ঋণের বিপরীতে দফায় দফায় টাকা দেওয়ার পরও রিপন মিয়া তার ও তার স্বামীর নামে মোট দশটি মিথ্যা মামলা ঠুকে দিয়েছেন। একইভাবে মাদ্রাসা শিক্ষক আফজালুল হক এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে দেড় লক্ষ টাকা পরিশোধ করলেও তাকে মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এসব মামলার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আজ আইনগত ও আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত দাদন ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত রিপন মিয়া কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুঠি গ্রামের মৃত আবুজার রহমানের ছেলে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।

চড়া সুদের অবৈধ কারবার এবং ফাঁকা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এই ঘটনা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে এই চক্রের প্রধান হোতাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে আরও বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে এই ধরনের বেআইনি দাদন ব্যবসা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয়

বিপর্যয় সামাল দিয়ে সেঞ্চুরি মিঠুন ও সোহানের

দাদন ব্যাবসায়ীর ফাঁদে সর্বশান্ত শতাধিক পরিবার, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত ০৬:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চড়া সুদের দাদন ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন শতাধিক পরিবার। চক্রবৃদ্ধি সুদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। মূল টাকার কয়েকগুণ পরিশোধ করার পরেও তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন করে আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গত ৩১ অক্টোবর নীলফামারী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রায় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, পারিবারিক ও সাংসারিক প্রয়োজনে তারা বাধ্য হয়ে রিপন মিয়ার কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ঋণ নেওয়ার সময় গ্যারান্টি হিসেবে তাদের কাছ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ফাঁকা চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর রেখে নেওয়া হতো। পরবর্তীতে আসল ও সুদের টাকা পুরোপুরি পরিশোধ করা সত্ত্বেও ওই চেকগুলো ফেরত দেওয়া হতো না। বরং চক্রবৃদ্ধি সুদের হিসাব দেখিয়ে চেকে মনগড়া অংক বসিয়ে আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করতেন ওই দাদন ব্যবসায়ী। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।

উত্তর দুরাকুঠি গ্রামের পল্লি চিকিৎসক গাউসুল আজম মিস্টু জানান, তিনি মাত্র বিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরেও তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয়েছে। মাগুরা ইউনিয়নের তাসকিনা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীর নামে সাড়ে চার লক্ষ টাকার ঋণের বিপরীতে দফায় দফায় টাকা দেওয়ার পরও রিপন মিয়া তার ও তার স্বামীর নামে মোট দশটি মিথ্যা মামলা ঠুকে দিয়েছেন। একইভাবে মাদ্রাসা শিক্ষক আফজালুল হক এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে দেড় লক্ষ টাকা পরিশোধ করলেও তাকে মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এসব মামলার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আজ আইনগত ও আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত দাদন ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত রিপন মিয়া কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুঠি গ্রামের মৃত আবুজার রহমানের ছেলে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।

চড়া সুদের অবৈধ কারবার এবং ফাঁকা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এই ঘটনা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে এই চক্রের প্রধান হোতাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে আরও বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে এই ধরনের বেআইনি দাদন ব্যবসা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।