রাজনীতি ডেস্ক: জনগণের মৌলিক অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় ১১ দলীয় ঐক্যের এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের ওপর স্বৈরাচারী শাসন চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে এবং তারা জনগণের দাবি মানতে নারাজ। সরকারের সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই নেতা।
১১ দলীয় ঐਕ্যের উদ্যোগে ঢাকা থেকে খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অভিমুখে আয়োজিত লংমার্চের অংশ হিসেবে এই পথসভার আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এই লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা। এছাড়া বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে।
পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন যে, দেশের মানুষের অধিকার হরণ করা হলে কঠোর এক দফার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তিনি জনগণকে সেই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার জোরালো আহ্বান জানান। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে প্রহসন করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, এর উপযুক্ত জবাব হিসেবে জনগণ এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন যে, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের চরিত্র পাল্টে গেছে। জাজিরার নাওডোবার পথসভা শেষে লংমার্চের বহরটি নির্ধারিত বিভিন্ন পথসভায় অংশ নিতে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করে। পর্যায়ক্রমে বাগেরহাট, খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেشیর মাধ্যমে এই লংমার্চ সমাপ্ত হবে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে আরও দুটি সফল লংমার্চ করেছিল ১১ দলীয় ঐক্য।





































