মতামত ডেস্ক: লন্ডন থেকে মরদেহ দেশে আসার পর সম্প্রতি তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যান অনেকে। প্রবাসী জীবনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাধ্যমে দেশের খবর জানার অভিজ্ঞতা এবং তার সঙ্গে পরিচয়ের নানা স্মৃতিচারণ করেন এক সহকর্মী। ২০১০ সালে দেশে ফেরার পর গোল্ডম্যান স্যাকসের চাকরি ছেড়ে আসার বিষয়টি তিনি সবসময় ছোট ভাইয়ের অর্জনের মতো গর্ব করে বলতেন।
২০১১ সালে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি প্রাইম টাইমে একটি দৈনিক নিউজ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নতুন ধারণা ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবা ছিল তার স্বভাব। দেখা কম হলেও দেশ, সমাজ এবং গণমাধ্যমের মান উন্নয়নের ভাবনা সবসময় তার কথায় প্রকাশ পেত।
জীবিত মানুষের জীবনী প্রকাশের সাহসী উদ্যোগে তিনি অভিনেত্রী কবরীর জীবনী প্রকাশ করে তা বাস্তবায়ন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি শৌখিন ছিলেন এবং নিজের পাঞ্জাবি নিজেই ডিজাইন করতেন। অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে অনেকে তাকে ভুল বুঝলেও যারা বিশ্বাস করতেন, তাদের প্রতি তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় পেশাদার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে কাজ করেছে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, তিনি দক্ষ মানুষও তৈরি করেছেন যারা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় পেশাদারত্বের চর্চা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
সাংবাদিকতা ও প্রকাশনার জগতে তার মাথায় সবসময় নতুন পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা ঘুরত। দেশের জন্য তার আরও অনেক কিছু করার সম্ভাবনা ও সুযোগ ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তার প্রয়াণে সাংবাদিকতা ও প্রকাশনা জগৎ একজন উদ্ভাবনী চিন্তাবিদকে হারাল।
































