সারাদেশ ডেস্ক: প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাবি পূরণ না হওয়ায় সাজেকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না করায় স্থানীয় সংগঠনগুলো এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশস্ত্র জেএসএস সদস্যদের অপসারণসহ তিনটি দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতেই সে সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ বিবৃতিতে এই ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, মাচালং এলাকার থালুকছড়া, চিল্যাতলী, নোয়াপাড়া, লালাবাক ও উজোয়াছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সশস্ত্র এই উপস্থিতির কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্থানীয় জনগণের জানমালের সুরক্ষা এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে। পরবর্তী কোনো নতুন ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের এই সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে জরুরি সেবা প্রদানকারী যানসমূহ এই অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
ঘোষিত বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মরদেহবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধবাহী যানবাহন এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়িগুলো অবরোধের বাইরে থাকবে। সাজেক অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় জনগণের এই আন্দোলন পুনরায় শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।






































