ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলা: সেই অভিভাবককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ Logo ভিভো ভি৮০ আসছে রাইজ অরেঞ্জের নতুন আকর্ষণে! Logo রাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭৪ শিক্ষক-শিক্ষার্থী Logo মহাকাশে চালু হয়েছে গুগলের এআই, লিখেছে কবিতাও Logo উদযাপিত হলো হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী Logo জাবির সিএলসি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক অধ্যাপক মানছুরকে যোগদান না করতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের হুমকি Logo প্রকৃতির পালাবদলে বদলে যাচ্ছে শীতের চিরচেনা রূপ Logo স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি Logo চোখের পাতায় রংয়ের খেলা: গ্লিটার ও আইশ্যাডো মিশ্রণের কৌশল Logo গিফট অব সাইট: মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকদের চক্ষুসেবায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও ইস্পাহানির যৌথ উদ্যোগ

জাবির সিএলসি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক অধ্যাপক মানছুরকে যোগদান না করতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের হুমকি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর। তবে এ পদে যোগদান না করতে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীমের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২ নভেম্বর) এক অফিস আদেশে অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর তাকে ফোন করে পদটিতে যোগদান না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মানছুর বলেন, “আমি এখনো পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি। এর আগেই ওই ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক আমাকে যোগাযোগ না করার জন্য থ্রেট দিয়েছেন। আমাকে বলা হয়, ‘যোগদান করলে সমস্যা হবে’।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বক্তব্য হচ্ছে, কোনো শিক্ষকের কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা প্রশাসনকে জানানো উচিত। উনি আমাকে সরাসরি ফোন করে কীভাবে? এই অধিকার তো ওই শিক্ষকের নেই। এ ঘটনাকে আমি হুমকি হিসেবে দেখছি এবং এটা আমার জন্য বিব্রতকর মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে উপাচার্যের কাছে নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।”

অন্যদিকে নিয়োগের প্রতিবাদে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের কাছে আপত্তি জানান অধ্যাপক হামীম।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক কামরুল হক হামীম বলেন, “নিয়মানুযায়ী আমি এই ইনস্টিটিউটের একজন সহযোগী অধ্যাপক। তাই এ বিষয়ে আমার মতামত বা সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় নেওয়ার কথা ছিল। অথচ আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। একজন ব্যক্তি গাড়ি চালাতে না জানলে তাকে গাড়ি চালাতে দিলে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, তেমনি অন্য বিভাগের একজন শিক্ষককে এনে এ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্ব দিলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তুলনামূলক সাহিত্য অত্যন্ত জটিল সাবজেক্ট।”

তবে অধ্যাপক হামীমের বিরুদ্ধে নতুন পরিচালককে হুমকি এবং নিজের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, অধ্যাপক হামীম শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে একধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন এবং হাউকাউ করেছেন। সেখানে টেবিল চাপড়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে তিনি হাউকাউ করতে করতে চলে যান।

উপ-উপাচার্য আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই একজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ গুরুতর। বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম বলেন, “একটু আগে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। একজন শিক্ষক হয়ে আরেকজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম পূর্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ এখনো সক্রিয় থেকে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে বাধা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করছে সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলা: সেই অভিভাবককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

জাবির সিএলসি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক অধ্যাপক মানছুরকে যোগদান না করতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের হুমকি

প্রকাশিত ০৬:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর। তবে এ পদে যোগদান না করতে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীমের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২ নভেম্বর) এক অফিস আদেশে অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর তাকে ফোন করে পদটিতে যোগদান না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মানছুর বলেন, “আমি এখনো পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি। এর আগেই ওই ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক আমাকে যোগাযোগ না করার জন্য থ্রেট দিয়েছেন। আমাকে বলা হয়, ‘যোগদান করলে সমস্যা হবে’।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বক্তব্য হচ্ছে, কোনো শিক্ষকের কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা প্রশাসনকে জানানো উচিত। উনি আমাকে সরাসরি ফোন করে কীভাবে? এই অধিকার তো ওই শিক্ষকের নেই। এ ঘটনাকে আমি হুমকি হিসেবে দেখছি এবং এটা আমার জন্য বিব্রতকর মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে উপাচার্যের কাছে নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।”

অন্যদিকে নিয়োগের প্রতিবাদে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের কাছে আপত্তি জানান অধ্যাপক হামীম।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক কামরুল হক হামীম বলেন, “নিয়মানুযায়ী আমি এই ইনস্টিটিউটের একজন সহযোগী অধ্যাপক। তাই এ বিষয়ে আমার মতামত বা সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় নেওয়ার কথা ছিল। অথচ আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। একজন ব্যক্তি গাড়ি চালাতে না জানলে তাকে গাড়ি চালাতে দিলে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, তেমনি অন্য বিভাগের একজন শিক্ষককে এনে এ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্ব দিলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তুলনামূলক সাহিত্য অত্যন্ত জটিল সাবজেক্ট।”

তবে অধ্যাপক হামীমের বিরুদ্ধে নতুন পরিচালককে হুমকি এবং নিজের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, অধ্যাপক হামীম শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে একধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন এবং হাউকাউ করেছেন। সেখানে টেবিল চাপড়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে তিনি হাউকাউ করতে করতে চলে যান।

উপ-উপাচার্য আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই একজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ গুরুতর। বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম বলেন, “একটু আগে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। একজন শিক্ষক হয়ে আরেকজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম পূর্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ এখনো সক্রিয় থেকে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে বাধা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করছে সংশ্লিষ্টরা।