অর্থনীতি ডেস্ক: কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা সিইপিএ চুক্তি নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়েও উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। সম্প্রতি সিউলে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। দুই দেশের সরকারের নীতিনির্ধারক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রস্তাবিত এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপটিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং শীর্ষ ব্যবসায়িক চেম্বারগুলোর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই গ্রুপটির মূল দায়িত্ব হবে দুই দেশের বাণিজ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা এবং ব্যবসা সহজ করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। পাশাপাশি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি মডেলের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতেও এই প্ল্যাটফর্মটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিউলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সফররত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্ক। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি। এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রচলিত তৈরি পোশাক খাতের গণ্ডি পেরিয়ে কোরিয়ার সঙ্গে একটি প্রযুক্তিভিত্তিক ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, জাহাজ নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান খাতগুলোতে কোরীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এছাড়া সফরকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল হুন্দাই গ্লোভিস, হানওয়া ওশান এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় কোরীয় কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।



































