পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইয়ুথ নিউক্লিয়ার ডায়লগ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ঈশ্বরদী উপজেলার পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ সোয়াইব, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বরত কোম্পানি রোসাটমের মানবসম্পদ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধি মিস ওলগা ভিসনেসকায়, ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০-এর সদস্য প্রমথ চন্দ্র বৌদ্ধ এবং পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।
আয়োজনে নিউক্লিয়ার এনার্জি ও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দেশের উন্নয়নে এর ভূমিকা, নিউক্লিয়ার সায়েন্স, নিউক্লিয়ার টেকনোলজি ও রেডিয়েশন সেফটি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে পারমাণবিক শক্তির অবদান নিয়ে আলোচনা শেষে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
মিস ওলগা ভিসনেসকায় তার বক্তব্যে বলেন,আমি যে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির প্রতিনিধিত্ব করছি, সেটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভূমিকা রাখছে। আমরা পৃথিবীর সব মহাদেশে বিভিন্ন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট নির্মাণ করছি। এসব প্রযুক্তি রাশিয়ার প্রকৌশলীদের দ্বারা উদ্ভাবিত এবং বিশ্বজুড়ে সম্মানিত। বর্তমানে রোসাটমের প্রধান অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে বিশ্ব পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে। খুব শিগগিরই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আপনাদের ঘর আলোকিত করবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরাসরি অংশ নিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আপনাদের সঙ্গে যৌথভাবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে দেশের শিল্পখাতের বিকাশ ঘটবে এবং অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে।
প্রমথ চন্দ্র বৌদ্ধ বলেন, ‘আপনারা জানেন, সর্বশেষ জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। সেখানে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বর্তমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলা করতে হলে আমাদের এমন জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে, যার মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি একটি বড় ক্ষেত্র। সৌর ও বায়ুশক্তি এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সৌর ও বায়ুশক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সব সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যায় না। কিন্তু বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বেসলোড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসলোড বলতে এমন বিদ্যুৎ সরবরাহকে বোঝায়, যা দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ দিতে পারে।’
সর্বশেষ সংবাদ
পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইয়ুথ নিউক্লিয়ার ডায়লগ অনুষ্ঠিত
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - প্রকাশিত ১০:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- ৮ বার পঠিত
জনপ্রিয়






























