ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার Logo শুধু নিয়ন্ত্রন নয়, ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায় ডায়াবেটিস নিরাময় সম্ভব  Logo নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার মোকাবেলায় সাংবাদিকদের পিআইবির প্রশিক্ষণ Logo ইউনিলিভার, যুক্তরাজ্য সরকার ও ইওয়াই-এর যৌথ উদ্যোগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন

রাজধানীতে জমজমাট শীতবস্ত্রের বাজার, ফুটপাতে বিক্রি বেশি

রাজধানীতে জেঁকে বসেছে শীত, আর সেই সঙ্গে জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের বেচাকেনা। গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, ফুলবাড়িয়া, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা মার্কেটে প্রতিদিন বাড়ছে ক্রেতার ভিড়। পরিবারিক কেনাকাটার পাশাপাশি ত্রাণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কম্বল ও গরম কাপড় কেনার প্রবণতাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি ও দাতা সংস্থার সামাজিক কার্যক্রম বাজারে বাড়তি গতি এনে দিয়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে বেচাকেনা আশানুরূপ না হলেও ডিসেম্বরের শুরু থেকে তীব্র শীত অনুভূত হওয়ায় অর্ডার দ্রুত বাড়ছে। বঙ্গবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বলেন, “শীত যতো বাড়ছে, ক্রেতাও ততো বাড়ছে। এখন ত্রাণের কম্বলের চাহিদা খুব ভালো—কেউ পাঁচ হাজার আবার কেউ ২০ থেকে ৫০ হাজার পিস পর্যন্ত অর্ডার দিচ্ছেন।

আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতারাই বড় ক্রেতা। তাঁর ভাষায়, ত্রাণের কম্বলের দাম আমরা তুলনামূলক কম রাখার চেষ্টা করি, লাভও কম করি।

এ বছর দেশি কম্বলের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাজারে এসব কম্বল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। আমদানি করা কম্বলের দাম আরও বেশি; প্রতি পিস ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিদেশি কম্বলের বর্তমান দাম ৮০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে মানভেদে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

কম্বলের পাশাপাশি গরম পোশাকেও জমেছে বেচাকেনা। জ্যাকেট, সোয়েটার, উলের শাল, মাফলার, চাদর—সব ধরনের শীতের পোশাকেই বাড়ছে চাহিদা। ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচামাল ও মজুরি খরচ বৃদ্ধির কারণে এ বছর পোশাকের দাম ২০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

খুচরা বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেক মার্কেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। রঙিন শীতের পোশাকে নারী–পুরুষ–শিশু সবার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কুড়িগ্রাম থেকে চাকরির পরীক্ষা দিতে আসা ক্রেতা আল মামুন মিন্টু জানান, গ্রামের বাজারের সঙ্গে দামের তেমন পার্থক্য না থাকলেও ঢাকায় পছন্দমতো পোশাক বেছে নিতে সুবিধা হয়েছে। তিনি দুইটি কান টুপি, জুতা এবং শিশুর পোশাক কেনেন। পরে নিউমার্কেটে গিয়ে স্ত্রী ও মায়ের জন্য কেনাকাটা করার পরিকল্পনাও করেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ নামা শীত ও নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ততা বাজারকে চাঙ্গা করে দিয়েছে। তাঁদের আশা, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বেচাকেনা আরও বাড়বে। খুচরা বিক্রেতারাও জানাচ্ছেন, মৌসুমের শুরু থেকেই বিক্রি ভালো যা পুরো মৌসুমের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।

জনপ্রিয়

১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার 

রাজধানীতে জমজমাট শীতবস্ত্রের বাজার, ফুটপাতে বিক্রি বেশি

প্রকাশিত ১২:০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীতে জেঁকে বসেছে শীত, আর সেই সঙ্গে জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের বেচাকেনা। গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, ফুলবাড়িয়া, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা মার্কেটে প্রতিদিন বাড়ছে ক্রেতার ভিড়। পরিবারিক কেনাকাটার পাশাপাশি ত্রাণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কম্বল ও গরম কাপড় কেনার প্রবণতাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি ও দাতা সংস্থার সামাজিক কার্যক্রম বাজারে বাড়তি গতি এনে দিয়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে বেচাকেনা আশানুরূপ না হলেও ডিসেম্বরের শুরু থেকে তীব্র শীত অনুভূত হওয়ায় অর্ডার দ্রুত বাড়ছে। বঙ্গবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বলেন, “শীত যতো বাড়ছে, ক্রেতাও ততো বাড়ছে। এখন ত্রাণের কম্বলের চাহিদা খুব ভালো—কেউ পাঁচ হাজার আবার কেউ ২০ থেকে ৫০ হাজার পিস পর্যন্ত অর্ডার দিচ্ছেন।

আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতারাই বড় ক্রেতা। তাঁর ভাষায়, ত্রাণের কম্বলের দাম আমরা তুলনামূলক কম রাখার চেষ্টা করি, লাভও কম করি।

এ বছর দেশি কম্বলের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাজারে এসব কম্বল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। আমদানি করা কম্বলের দাম আরও বেশি; প্রতি পিস ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিদেশি কম্বলের বর্তমান দাম ৮০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে মানভেদে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

কম্বলের পাশাপাশি গরম পোশাকেও জমেছে বেচাকেনা। জ্যাকেট, সোয়েটার, উলের শাল, মাফলার, চাদর—সব ধরনের শীতের পোশাকেই বাড়ছে চাহিদা। ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচামাল ও মজুরি খরচ বৃদ্ধির কারণে এ বছর পোশাকের দাম ২০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

খুচরা বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেক মার্কেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। রঙিন শীতের পোশাকে নারী–পুরুষ–শিশু সবার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কুড়িগ্রাম থেকে চাকরির পরীক্ষা দিতে আসা ক্রেতা আল মামুন মিন্টু জানান, গ্রামের বাজারের সঙ্গে দামের তেমন পার্থক্য না থাকলেও ঢাকায় পছন্দমতো পোশাক বেছে নিতে সুবিধা হয়েছে। তিনি দুইটি কান টুপি, জুতা এবং শিশুর পোশাক কেনেন। পরে নিউমার্কেটে গিয়ে স্ত্রী ও মায়ের জন্য কেনাকাটা করার পরিকল্পনাও করেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ নামা শীত ও নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ততা বাজারকে চাঙ্গা করে দিয়েছে। তাঁদের আশা, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বেচাকেনা আরও বাড়বে। খুচরা বিক্রেতারাও জানাচ্ছেন, মৌসুমের শুরু থেকেই বিক্রি ভালো যা পুরো মৌসুমের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।