ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সৌদিয়া বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বিডিটিকেটসে Logo রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো Logo কেন্দ্রীয়ভাবে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজন করবে যবিপ্রবি Logo জাবিতে গাইবান্ধা জেলা সমিতির ইফতার মাহফিল, নবীন-প্রবীণদের মিলনমেলা Logo কুবিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে গণ-ইফতার  Logo কুবির আর্ট অ্যান্ড হেরিটেজ সোসাইটির নেতৃত্বে মুজাহিদ–লাবিব Logo বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইনক্লুসিভ জাহাঙ্গীরনগর’র ইফতার মাহফিল Logo হাবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল Logo কঠোর সমালোচনা’ না করে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত: ডিএসসিসি প্রশাসক

নির্বাচনে ৩ স্তরের নিরাপত্তা, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৭০: আইজিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ৩ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেন, কেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স–এই তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নিরাপত্তায় মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য কাজ করছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আনসার বাহিনীও দায়িত্বে নিয়োজিত।

তিনি বলেন,  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। নির্বাচনকে ঘিরে আস্থা অর্জন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি)।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে স্ট্যাটিক ফোর্স, ভ্রাম্যমাণ পুলিশ দল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত হবে পুলিশের বডি ক্যামেরা। এছাড়া পুলিশ সুপারের নিয়ন্ত্রণে ড্রোন ক্যামেরা পরিচালনা করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে থাকছেন মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে সাধারণ পুলিশ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ জন, স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯৩ হাজার ৩৫১ জন এবং অন্যান্য ইউনিটের ২৯ হাজার ৮৫৬ জন সদস্য থানায় অবস্থান করবেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বৈধ ২৭ হাজার ৯৯৫টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও আনসার বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোতায়েন করা হয়েছে ৬ লক্ষ আনসার সদস্য, যারা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ৫০৩ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সহিংসতা কমানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজি জানান, এবারের নির্বাচনে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশের পুরোনো ফোর্স রয়ে গেছে। ১৫ বছরের বদঅভ্যাস একদিনে বদলানো সম্ভব নয়। তবে আমরা পুলিশকে আরও দক্ষ ও পেশাদার করে তুলতে কাজ করছি।”
থানায় লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচনকালীন হুমকি কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে আইজি বলেন, “যেকোনো অস্ত্রই থ্রেট। জনসাধারণের কাছে থাকা প্রায় এক হাজার অস্ত্র লুট হয়েছে। তবে নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা করার সুযোগ দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে সবাই নিশ্চিত থাকতে পারেন।”

এছাড়া নির্বাচনে সেনাবাহিনীর এক লক্ষ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নির্বাচন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পুলিশ প্রধান আরও বলেন, “নির্বাচন কোনো হুমকি নয়। বরং আমরা সর্বকালের সেরা নির্বাচন করতে চাই। ইতিহাসে এই নির্বাচন লেখা থাকবে।” তবে নির্বাচনের সফলতা নিয়ে আগাম মন্তব্য না করে তিনি বলেন, “১৩ তারিখে সব বলা যাবে।”

জনপ্রিয়

সৌদিয়া বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বিডিটিকেটসে

নির্বাচনে ৩ স্তরের নিরাপত্তা, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৭০: আইজিপি

প্রকাশিত ০৮:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ৩ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেন, কেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স–এই তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নিরাপত্তায় মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য কাজ করছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আনসার বাহিনীও দায়িত্বে নিয়োজিত।

তিনি বলেন,  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। নির্বাচনকে ঘিরে আস্থা অর্জন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি)।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে স্ট্যাটিক ফোর্স, ভ্রাম্যমাণ পুলিশ দল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত হবে পুলিশের বডি ক্যামেরা। এছাড়া পুলিশ সুপারের নিয়ন্ত্রণে ড্রোন ক্যামেরা পরিচালনা করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে থাকছেন মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে সাধারণ পুলিশ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ জন, স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯৩ হাজার ৩৫১ জন এবং অন্যান্য ইউনিটের ২৯ হাজার ৮৫৬ জন সদস্য থানায় অবস্থান করবেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বৈধ ২৭ হাজার ৯৯৫টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও আনসার বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোতায়েন করা হয়েছে ৬ লক্ষ আনসার সদস্য, যারা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ৫০৩ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সহিংসতা কমানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজি জানান, এবারের নির্বাচনে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশের পুরোনো ফোর্স রয়ে গেছে। ১৫ বছরের বদঅভ্যাস একদিনে বদলানো সম্ভব নয়। তবে আমরা পুলিশকে আরও দক্ষ ও পেশাদার করে তুলতে কাজ করছি।”
থানায় লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচনকালীন হুমকি কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে আইজি বলেন, “যেকোনো অস্ত্রই থ্রেট। জনসাধারণের কাছে থাকা প্রায় এক হাজার অস্ত্র লুট হয়েছে। তবে নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা করার সুযোগ দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে সবাই নিশ্চিত থাকতে পারেন।”

এছাড়া নির্বাচনে সেনাবাহিনীর এক লক্ষ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নির্বাচন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পুলিশ প্রধান আরও বলেন, “নির্বাচন কোনো হুমকি নয়। বরং আমরা সর্বকালের সেরা নির্বাচন করতে চাই। ইতিহাসে এই নির্বাচন লেখা থাকবে।” তবে নির্বাচনের সফলতা নিয়ে আগাম মন্তব্য না করে তিনি বলেন, “১৩ তারিখে সব বলা যাবে।”