ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ক্রীড়াঙ্গনের বর্ণাঢ্য অধ্যায় পেরিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ Logo বাকৃবির উদ্ভাবিত দেশের প্রথম জৈব ছত্রাকনাশক পিজি ট্রাইকোডার্মা, বাড়বে ফলন কমবে রাসায়নিকের ব্যবহার Logo তিন সরকার, এক রাষ্ট্রপতি: চুপ্পুর আসা-যাওয়ার গল্প! Logo মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে বিস্ফোরণ Logo শ্রীমঙ্গলের ‘মেঘমালতী হোমস্টে’ রিসোর্টে স্বামী-স্ত্রীর গোপন ভিডিও ধারণ করে টাকা দাবি; ভাইরাল হলে নাম বদলে ‘বেলাশেষে’! Logo রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন Logo ভিন্ন তিন সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করে অবশেষে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন Logo আইডিয়া কম্পিটিশন-২০২৬ এ দ্বিতীয় বাকৃবির শিক্ষার্থীরা Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীসহ অংশীজনদের নিয়ে পুষ্টি সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন Logo ভোক্তার আস্থা অর্জন এবং পণ্য ও সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে খাস ফুড।

ক্রীড়াঙ্গনের বর্ণাঢ্য অধ্যায় পেরিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ১২:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত

বাংলাদেশের নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বহু পূর্বেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিজের নাম অবিস্মরণীয় করে রেখেছিলেন। মাঠের অসাধারণ নৈপুণ্য, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধির জন্য তাঁর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ষাট ও সত্তরের দশকে ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদদের একজন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফর করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে দলটির অধিনায়কের গুরুদায়িত্বও পালন করেন। ঘরোয়া ফুটবলে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে তিনি মাঠ কাঁপিয়েছেন। এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

কেবল ফুটবলেই সীমাবদ্ধ ছিল না তাঁর ক্রীড়া নৈপুণ্য। অ্যাথলেটিক্সেও তিনি তৈরি করেছিলেন অনন্য ইতিহাস। ১৯৬৪, ১৯৬৫ এবং ১৯৬৬—টানা এই তিন মৌসুমে তিনি ছিলেন সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব। ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে তৎকালীন জাতীয় রেকর্ড টাইমিং গড়ে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেছিলেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মাননা ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি দেশের ফুটবল ও জাতীয় ক্রীড়া পরিচালনায় অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলান। একইসাথে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নির্বাচিত সহ-সভাপতি এবং ফুটবলের বিশ্বনিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপিল ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছিলেন। মাঠের দ্রুততম মানব ও জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়কের বর্ণাঢ্য জীবনের এই উজ্জ্বল অধ্যায় আজও বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

জনপ্রিয়

ক্রীড়াঙ্গনের বর্ণাঢ্য অধ্যায় পেরিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ক্রীড়াঙ্গনের বর্ণাঢ্য অধ্যায় পেরিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ

প্রকাশিত ১২:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বহু পূর্বেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিজের নাম অবিস্মরণীয় করে রেখেছিলেন। মাঠের অসাধারণ নৈপুণ্য, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধির জন্য তাঁর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ষাট ও সত্তরের দশকে ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদদের একজন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফর করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে দলটির অধিনায়কের গুরুদায়িত্বও পালন করেন। ঘরোয়া ফুটবলে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে তিনি মাঠ কাঁপিয়েছেন। এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

কেবল ফুটবলেই সীমাবদ্ধ ছিল না তাঁর ক্রীড়া নৈপুণ্য। অ্যাথলেটিক্সেও তিনি তৈরি করেছিলেন অনন্য ইতিহাস। ১৯৬৪, ১৯৬৫ এবং ১৯৬৬—টানা এই তিন মৌসুমে তিনি ছিলেন সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব। ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে তৎকালীন জাতীয় রেকর্ড টাইমিং গড়ে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেছিলেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মাননা ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি দেশের ফুটবল ও জাতীয় ক্রীড়া পরিচালনায় অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলান। একইসাথে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নির্বাচিত সহ-সভাপতি এবং ফুটবলের বিশ্বনিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপিল ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছিলেন। মাঠের দ্রুততম মানব ও জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়কের বর্ণাঢ্য জীবনের এই উজ্জ্বল অধ্যায় আজও বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।