রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের সড়কসংলগ্ন সি ভবনের একাধিক বিভাগের জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ার পর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তা মেরামত করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় যানবাহনের অতিরিক্ত শব্দ ও ধুলাবালি সহজেই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। ফলে প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় ভেঙে যায় সি ভবনের বিভিন্ন বিভাগের জানালার কাচ। তবে ঘটনার পর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সেসব জানালার কাচ মেরামত করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কবি নজরুল সরকারি কলেজের সড়কসংলগ্ন সি ভবনের বাংলা এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রায় প্রতিটি জানালার কাচই ভাঙা। এ ছাড়া অন্যান্য কয়েকটি বিভাগেরও দু-একটি জানালার কাচ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে।
সি ভবনটি সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় ভাঙা জানালা দিয়ে সহজেই যানবাহনের শব্দ ও রাস্তার ধুলাবালি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। ক্লাস চলাকালে অতিরিক্ত শব্দের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগ দিতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহাদ পান্থ বলেন, ‘মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় কাচগুলো যে ভেঙেছে এখনো তা মেরামত করা হয়নি। ক্লাসে বাতাসের সঙ্গে ধুলাবালি আসে প্রচুর শব্দ আসে বাহির থেকে এতে আমাদের ক্লাস করতে অসুবিধা হয়।’
ইনকোর্স পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিজওয়ান ইসলাম সহপাঠীদের সঙ্গে বলছিলেন, ‘পুরান ঢাকায় এমনিতেই শব্দদূষণ অনেক বেশি। এর মধ্যে আমাদের ক্লাসরুমের জানালার কাঁচ ভাঙা থাকায় বাইরে থেকে যেভাবে শব্দ ভেতরে আসছে, এভাবে পরীক্ষায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ক্লাসরুমে ঢুকেই দেখি বেঞ্চগুলোতে এত ধুলাবালি জমে আছে, বসার মতো পরিবেশেই নেই। এইভাবে আর কত দিন? আমরা দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান চাই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ায় এখন ক্লাসরুমে অতিরিক্ত ধুলাবালি প্রবেশ করছে। ফলে প্রতিদিনই সুইপারদের বেঞ্চগুলো পরিষ্কার করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের সঙ্গে কথা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘এ বিষয়ে কি অধ্যক্ষ স্যারকে অবহিত করা হয়েছে?’
বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাধিকবার অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন–এ কথা জানালে তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই এটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।’
এ বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এ বিষয়ে বরাদ্দের জন্য ডিজি অফিসে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে।’




























