ব্রিটিশ আইনে পড়ুয়া বাংলাদেশি তরুণী সায়মা আনিকা থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একাধিক আন্তর্জাতিক আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দেশের জাতীয় পতাকা হাতে এবং লাল-সবুজের পোশাক পরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে ধরেন তিনি।
থাইল্যান্ডের KIFF (Korat International Folklore Festival), UNESCO Thailand Section-এর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেন সায়মা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসবে তিনি বাংলাদেশের পতাকা হাতে মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি পাতায়ায় অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক র্যালি ও ফ্যাশন শোতেও অংশগ্রহণ করেন।
২৯ জুলাই ব্যাংককে অনুষ্ঠিত KIFF-এর অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক উন্নয়নে অবদান, নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব ও সৃজনশীল ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ সায়মা আনিকা লাভ করেন 2026 International Cultural Development Professional Award। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই সম্মাননা অর্জন তাঁর জন্য বিশেষ গৌরবের বলে জানান তিনি।
এর আগে ২৬ জুলাই পাতায়ায় অনুষ্ঠিত Mr-Miss & Mrs Asia World International Beauty Contest Thailand-2026-এ বাংলাদেশের হয়ে Mrs. Asia World Model – Bangladesh হিসেবে আন্তর্জাতিক র্যাম্পে অংশ নেন সায়মা। Mumbai Global আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি Certificate of Appreciation অর্জন করেন।
আন্তর্জাতিক র্যাম্প, ফ্যাশন শো, সাংস্কৃতিক র্যালি ও লোকসংস্কৃতির আন্তর্জাতিক মঞ্চ—বিভিন্ন পর্বে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরে দেশের পরিচয় বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করেন সায়মা। ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ভুটান, তুরস্ক, ইথিওপিয়া, মেক্সিকো, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান তিনি।
দেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই সায়মার স্বপ্ন
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে সায়মা আনিকা বলেন, “বাংলাদেশ আমার কাছে শুধু একটি দেশ নয়, এটি আমার গর্ব, আমার পরিচয়। বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। আমাদের দেশ আয়তনে ছোট হলেও আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গৌরব কোনো অংশেই ছোট নয়। ভাষা, সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রয়েছে নিজস্ব ও গর্বের পরিচয়।
আমি চাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ বাংলাদেশকে আরও কাছ থেকে জানুক, আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুক এবং লাল-সবুজের পতাকার সঙ্গে বাংলাদেশের গৌরবের গল্পটিও চিনুক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যখন বাংলাদেশের পতাকা হাতে দাঁড়াই, তখন মনে হয় আমি শুধু নিজেকে নয়, আমার পুরো দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি। এই অনুভূতি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের।
আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন হলো বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরা এবং দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয়কে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করা। আমি চাই, বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ বাংলাদেশকে চিনুক, আমাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করুক এবং আমাদের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানুক। একজন বাংলাদেশি হিসেবে দেশের জন্য কিছু করতে পারা এবং লাল-সবুজের মর্যাদা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই আমার অন্যতম বড় স্বপ্ন।”





























