সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অ্যাপের সূত্রে পরিচয় হওয়া এক চীনা নাগরিক প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে ছুটে আসেন। ডং লিয়াং নামের ওই যুবক সখীপুর উপজেলার বাগবেড় গ্রামের প্রবাসী আজমত আলীর মেয়ে আশিতার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। মাস দুয়েক আগে অনলাইনে তাদের মধ্যে এই সম্পর্কের সূত্রপাত হয় এবং নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। পরবর্তীতে তারা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং যুবকটি বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেন।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্প্রতি ডং লিয়াং বাংলাদেশে আসেন এবং সরাসরি টাঙ্গাইলের সখীপুর বাজারে পৌঁছান। খবর পেয়ে তরুণী আশিতা নিজেই বাজারে গিয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিদেশি এক যুবক একটি গ্রামের বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়েছেন—এমন খবর দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে তাকে একনজর দেখার জন্য ওই বাড়িতে কৌতূহলী লোকজনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপকালে ডং লিয়াং জানান যে, তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাংলাদেশি এই তরুণীকে বিয়ে করতে চান। এমনকি বিয়ের পর তাকে সসম্মানে চীনে নিজের দেশে নিয়ে যাওয়ার সুদূরপ্রসারী ইচ্ছার কথাও তিনি ব্যক্ত করেন। তবে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ওই বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্টের ভিসার মেয়াদ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে মধ্যরাতে বিষয়টি সখীপুর থানাকে অবহিত করেন। পরে উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে এবং স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতায় একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে ওই চীনা নাগরিককে নিরাপদে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এবং থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন যে, ভিসার মেয়াদ নবায়ন করে ওই যুবক খুব দ্রুতই পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী আশিতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করবেন।




































