ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo প্রেমের টানে চীন থেকে টাঙ্গাইলে লিয়াং, বিয়ে করা হলো না যে কারণে Logo সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট Logo শুভ জন্মদিন মোস্তাফিজুর রহমান Logo হামে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই, পাঁচ মাস পরেও কেন থামানো যাচ্ছে না? Logo সাপ মেরে ব্যাগে ভরে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিলেন স্বামী Logo রাজশাহীর পদ্মায় ১০ বছরে দুই শতাধিক মৃত্যু, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেনো১৫ সিরিজ প্রেজেন্টস ফটোগ্রাফি কনটেস্টের বিজয়ী ঘোষণা করলো অপো Logo ৯ মাসের ০% ইএমআইতে ৩,৯০০ টাকার কিস্তিতে ভিভো ভি৮০ লাইট Logo ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসে সর্বোচ্চ পাঁচ পুরস্কার রবির Logo এফডিসিতে যে কারণে রেগে যান সামিরা, পরদিনই সালমান শাহর মৃত্যু

হামে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই, পাঁচ মাস পরেও কেন থামানো যাচ্ছে না?

বাংলাদেশে মহামারি আকারে হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নতি ঘটেনি। বরং দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর মিছিল দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা সত্ত্বেও ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে কার্যকর কোনো বড় অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন শিশুর অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সাধারণ অভিভাবকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসালয়গুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ভিড় করছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা, যা স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কারণ রোগটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ছড়ায়। পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব এবং টিকা দানের কার্যক্রমে কিছু ফারাকের কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করলেও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নানা ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তার সুফল পেতে সাধারণ মানুষকে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এই স্বাস্থ্য সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

চলমান এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে অভিভাবক ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মহামারি পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। অন্যথায়, শিশু মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান হার দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে।

জনপ্রিয়

প্রেমের টানে চীন থেকে টাঙ্গাইলে লিয়াং, বিয়ে করা হলো না যে কারণে

হামে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই, পাঁচ মাস পরেও কেন থামানো যাচ্ছে না?

প্রকাশিত ০৮:৩২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে মহামারি আকারে হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নতি ঘটেনি। বরং দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর মিছিল দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা সত্ত্বেও ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে কার্যকর কোনো বড় অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন শিশুর অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সাধারণ অভিভাবকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসালয়গুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ভিড় করছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা, যা স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কারণ রোগটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ছড়ায়। পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব এবং টিকা দানের কার্যক্রমে কিছু ফারাকের কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করলেও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নানা ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তার সুফল পেতে সাধারণ মানুষকে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এই স্বাস্থ্য সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

চলমান এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে অভিভাবক ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মহামারি পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। অন্যথায়, শিশু মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান হার দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে।