নব্বইয়ের দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় জুটি হিসেবে আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছেন অমর নায়ক সালমান শাহ এবং চিত্রনায়িকা শাবনূর। রূপালি পর্দায় তাদের অভিনীত রোমান্টিক চরিত্রগুলো দারুণ সাড়া ফেললেও সিনেমার বাইরে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা সময় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে সেই সময়ে বিভিন্ন মহলে প্রচার হয়েছিল যে এই দুই তারকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তবে শুরু থেকেই এই ধরনের সব গুঞ্জন ও জল্পনা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এসেছেন শাবনূর। তিনি বরাবরই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে সালমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনো প্রেমের ছিল না, বরং তাদের বন্ধন ছিল অত্যন্ত পবিত্র ও ভাই-বোনের মতো।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শাবনূর জানিয়েছেন যে জনপ্রিয় সিনেমা ‘তুমি আমার’-এ একসঙ্গে কাজের সুবাদে এই দুই তারকার আনুষ্ঠানিক পরিচয় হয়েছিল। এর আগে শুটিং সেটে দেখা হলেও খুব একটা কথা হতো না, তবে ওই ছবির সাফল্যের পর তাদের জুটির চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। মাত্র চার বছরের সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে সালমান শাহ মোট সাতাশটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যার মধ্যে চৌদ্দটিতেই তার সহশিল্পী ছিলেন শাবনূর। ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘তোমাকে চাই’, ‘জীবন সংসার’ কিংবা ‘আনন্দ অশ্রু’-এর মতো ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্রে এই জুটি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেয়। শুটিংয়ের সুবাদে তাদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল এবং অনেক সময় চোখের ইশারাতেই তারা কাজের নির্দেশনা বুঝে নিতেন।
পর্দার বাইরের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শাবনূর আরও উল্লেখ করেন যে সালমানের নিজের কোনো ছোট বোন ছিল না বিধায় তিনি তাকে স্নেহের চোখে দেখতেন এবং ভালোবেসে ‘পিচ্চি’ বলে ডাকতেন। কাজের প্রতি সালমানের অগাধ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন যে এই জুটি নিয়ে যেসব মুখরোচক গল্প ছড়ানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু মানুষ এবং নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম তাদের সম্পর্ক নিয়ে মনগড়া নানা খবর প্রচার করেছিল, যা তার ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালালেও তিনি কোনো অপপ্রচারে কান দেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি রিয়াজ, মান্না, শাকিব খানসহ দেশের খ্যাতনামা বহু নায়কের সঙ্গে সফলভাবে অভিনয় চালিয়ে যান।
এদিকে প্রয়াত নায়কের মা নীলা চৌধুরীও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে এই কথার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যে সালমান ও শাবনূরের সম্পর্ক ভাই-বোনের মতোই ছিল। ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও আজও তাকে এবং তার জুটিকে নিয়ে দর্শকদের আগ্রহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের ভিড়ে শাবনূরের বারবার দেওয়া বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই সোনালী জুটির আড়ালে মূলত গভীর বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধাভাজ্য এক সম্পর্কের মেলবন্ধন ছিল।



































