মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র পেনাংয়ে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাজার প্রসারিত করতে এবং দেশটিতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে মালয়েিস্থায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বেগবান করার উদ্দেশ্যে পেনাংয়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পেনাংয়ের শিল্পাঞ্চলকে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এই লক্ষ্যেই হাইকমিশন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে পেনাংয়ে আয়োজিত এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলোতে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারের (এমআইসিসিআই) পেনাং শাখার সভাপতি দাতো ব্রায়ান তান গুয়ান হুইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া মালয়েশিয়ান ফেডারেশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্সের (এফএমএম) পেনাং শাখার সভাপতি দাতো সেরি লি তেওং লি এবং সংগঠনটির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের সঙ্গেও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের গুণগত মানসম্পন্ন রপ্তানি পণ্য মালয়েশিয়ার বাজারে আরও জোরালোভাবে স্থান করে নেওয়ার সুযোগ এবং উভয় দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিশদ মতবিনিময় করা হয়।
আলোচনাকালে বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা তুলে ধরে মালয়েশীয় ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে বা এককভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়। দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারত্ব ভিত্তিক নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকই নয়, বরং দুই দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যে পেনাংয়ে একটি বড় পরিসরে ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক আলোচনা করেছে। এই ফোরামের মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন এবং পারস্পরিক বাণিজ্যের সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্রগুলো সহজে চিহ্নিত করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, পেনাং কেবল মালয়েশিয়ার একটি প্রাচীন বন্দর কিংবা সাধারণ শিল্পাঞ্চল নয়, বরং এটি দেশটির প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও আধুনিক উৎপাদন শিল্পের অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশ্বের বহু নামকরা বহুজাতিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই রাজ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে পেনাংয়ের গুরুত্বকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে পেনাংয়ের শক্তিশালী শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপিত হলে তা দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে এবং নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সাম্প্রতিক এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার, পেনাংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের সম্মানসূচক কনসাল, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) এবং তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক)। অন্যদিকে, মালয়েশীয় ব্যবসায়িক চেম্বারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উপ-কমিটির প্রধান ও শীর্ষ প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। উভয় পক্ষের এই নিরলস কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রচেষ্টা দুই দেশের বেসরকারি খাতের মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও বেশি শক্তিশালী ও স্থায়ী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





































