ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইয়ামাল-হাফিনিয়ার নৈপুণ্যে ভিলাকে হারাল বার্সেলোনা Logo ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও জিতল ইউনাইটেড Logo বায়ুদূষণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বসাবে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন Logo অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশ নিতে আগাম অনুমতি লাগবে না প্রবাসীদের Logo বাংলালিংকের ‘মুক্ত পে’ চালুর ঘোষণা Logo সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষায় নীতি ও নৈতিকতা বিষয়ক কর্মশালা Logo বিকৃত যৌনতার ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার Logo তিন দিনের সফরে ঢাকায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী Logo সচল হবে ১৪৬৬টি চিংড়ি মহাল, অপরিশোধিত সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত Logo সংবিধান সংস্কারের দাবিতে অনড় বিরোধীরা, শেষমেশ কী একতরফা সিদ্ধান্ত?

নিজের ১২ বছরের মেয়েকে ছয়মাস ধরে ধর্ষণ, বাবা আটক

পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজের নাবালিকা কন্যাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে অহিদুল মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। সম্প্রতি উপজেলার একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি প্রকাশ পায়, যার জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রথমে গণপিটুনি দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্ত অহিদুল পেশায় একজন অটোরিকশাচালক এবং তিনি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ডোবাতলা গ্রামের ফজর আলীর সন্তান। ঘটনার সময় তিনি নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে অহিদুলের প্রথম স্ত্রী এই আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বিষপানে আত্মহত্যা করেছিলেন। প্রথম পক্ষের ঘরে যমজ ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে, আর ভুক্তভোগী ওই শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর অহিদুল পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার তিন সন্তানকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন এবং এই সুযোগেই তিনি নিজের মেয়ের ওপর এই অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির বর্ণনা অনুযায়ী, গত ছয় মাস ধরে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন তার নিজের বাবা। এমনকি দুই মাস আগে শিশুটি তার দাদিকে বিষয়টি জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি, বরং তাকে ঘটনাটি গোপন রাখতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছিল। অবর্ণনীয় এই নির্যাতন আর সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শিশুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অন্যান্য বাসিন্দাদের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। এরপর অভিযুক্ত অহিদুল বাড়িতে ফিরে আসলে স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে তাকে মারধর করে, যার এক পর্যায়ে তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আহত অবস্থায় অভিযুক্ত অহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে ভিকটিম শিশুটিকেও উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা রুজুসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

জনপ্রিয়

ইয়ামাল-হাফিনিয়ার নৈপুণ্যে ভিলাকে হারাল বার্সেলোনা

নিজের ১২ বছরের মেয়েকে ছয়মাস ধরে ধর্ষণ, বাবা আটক

প্রকাশিত ১০:১৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজের নাবালিকা কন্যাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে অহিদুল মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। সম্প্রতি উপজেলার একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি প্রকাশ পায়, যার জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রথমে গণপিটুনি দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্ত অহিদুল পেশায় একজন অটোরিকশাচালক এবং তিনি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ডোবাতলা গ্রামের ফজর আলীর সন্তান। ঘটনার সময় তিনি নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে অহিদুলের প্রথম স্ত্রী এই আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বিষপানে আত্মহত্যা করেছিলেন। প্রথম পক্ষের ঘরে যমজ ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে, আর ভুক্তভোগী ওই শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর অহিদুল পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার তিন সন্তানকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন এবং এই সুযোগেই তিনি নিজের মেয়ের ওপর এই অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির বর্ণনা অনুযায়ী, গত ছয় মাস ধরে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন তার নিজের বাবা। এমনকি দুই মাস আগে শিশুটি তার দাদিকে বিষয়টি জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি, বরং তাকে ঘটনাটি গোপন রাখতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছিল। অবর্ণনীয় এই নির্যাতন আর সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শিশুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অন্যান্য বাসিন্দাদের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। এরপর অভিযুক্ত অহিদুল বাড়িতে ফিরে আসলে স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে তাকে মারধর করে, যার এক পর্যায়ে তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আহত অবস্থায় অভিযুক্ত অহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে ভিকটিম শিশুটিকেও উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা রুজুসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।