ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চমকপ্রদ যাত্রায় লঁসের জালে ৯ গোল দিয়ে কোমোর রেকর্ড Logo উত্তরায় উচ্ছেদ অভিযানে ‘ঘুষ নেওয়ার’ অভিযোগ তুলে ম্যাজিস্ট্রেটকে হেনস্তা Logo চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ে ফিরল আর্সেনাল Logo কংগ্রেসে ক্ষমতা হারিয়ে ‘খোঁড়া হাঁস’, ভিটো ক্ষমতা দিয়ে কতদূর যেতে পারবেন ট্রাম্প? Logo ৫ গোলের লড়াইয়ে লাইপজিগের মাঠে সিটির কষ্টার্জিত জয় Logo দুইবার পিছিয়ে পড়েও লিভারপুলকে হারিয়ে ফেনেরবাচের চমক Logo তরঙ্গ নিলামের আগে আলোচনা চায় মোবাইল অপারেটররা Logo শেষ মুহূর্তে ভালভের্দের দর্শনীয় গোলে রেয়াল মাদ্রিদের জয় Logo নয় মাসে সিটি ব্যাংকের ইপিএস বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ টাকা Logo ট্রাম্পের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা, ডেমোক্র্যাটদের সামনেও পরীক্ষা

বিদেশি ফল চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন লোহাগড়ার কৃষকরা

প্রথাগত চাষাবাদ থেকে সরে এসে দেশের কৃষকরা এখন লাভজনক ও আধুনিক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কৃষকরাও এর বাইরে নন, তারা নিজেদের জমিতে বিদেশি ফল চাষ করে এক নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধান ও পাটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এলাকার উদ্যান কৃষকরা এখন উচ্চমূল্যের এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ বিদেশি ফল উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছেন। এই পরিবর্তন কেবল তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির পথই দেখাচ্ছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা আনছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা অত্যন্ত যত্নের সাথে ড্রাগন, মাল্টা, লংগান, আনার, শরিফা এবং আঙুরের মতো লাভজনক ফল চাষ করছেন। অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে এসব গাছের বৃদ্ধিও বেশ ভালো হচ্ছে। একসময়ের সাধারণ চাষিরা এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া পেয়ে দক্ষ ফলচাষীতে পরিণত হয়েছেন। তারা নিজ উদ্যোগে বাগান তৈরি করে নিয়মিত সার, কীটনাশক ও সেচ দিয়ে গাছগুলোকে সুস্থ রাখছেন, যা দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদেশি এসব ফল বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়ায় তাদের লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। দেশীয় ফলের তুলনায় ভিনদেশি এসব ফলের চাহিদা বাজারে ব্যাপক থাকায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি নিয়ে তাদের কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে এসব ফল কিনে নিয়ে যান, ফলে পরিবহন খরচ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানি থেকেও তারা মুক্ত থাকেন। এই লাভজনক ব্যবসার সুবাদে কৃষকদের অনেকের পক্ষেই পরিবারের আর্থিক চাহিদা মিটিয়ে সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়ার মাটি ও আবহাওয়া এই ধরনের বিদেশি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। স্থানীয় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা যেকোনো রোগবালাই থেকে বাগান রক্ষা করতে পারেন। ফলচাষীদের এই সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও চাকরির পেছনে না ছুটে ফল বাগান তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। কৃষকদের এই দূরদর্শী উদ্যোগ ভবিষ্যতে লোহাগড়া উপজেলাকে দেশের অন্যতম প্রধান ফল উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

চমকপ্রদ যাত্রায় লঁসের জালে ৯ গোল দিয়ে কোমোর রেকর্ড

বিদেশি ফল চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন লোহাগড়ার কৃষকরা

প্রকাশিত ১০:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথাগত চাষাবাদ থেকে সরে এসে দেশের কৃষকরা এখন লাভজনক ও আধুনিক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কৃষকরাও এর বাইরে নন, তারা নিজেদের জমিতে বিদেশি ফল চাষ করে এক নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধান ও পাটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এলাকার উদ্যান কৃষকরা এখন উচ্চমূল্যের এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ বিদেশি ফল উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছেন। এই পরিবর্তন কেবল তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির পথই দেখাচ্ছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা আনছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা অত্যন্ত যত্নের সাথে ড্রাগন, মাল্টা, লংগান, আনার, শরিফা এবং আঙুরের মতো লাভজনক ফল চাষ করছেন। অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে এসব গাছের বৃদ্ধিও বেশ ভালো হচ্ছে। একসময়ের সাধারণ চাষিরা এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া পেয়ে দক্ষ ফলচাষীতে পরিণত হয়েছেন। তারা নিজ উদ্যোগে বাগান তৈরি করে নিয়মিত সার, কীটনাশক ও সেচ দিয়ে গাছগুলোকে সুস্থ রাখছেন, যা দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদেশি এসব ফল বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়ায় তাদের লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। দেশীয় ফলের তুলনায় ভিনদেশি এসব ফলের চাহিদা বাজারে ব্যাপক থাকায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি নিয়ে তাদের কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে এসব ফল কিনে নিয়ে যান, ফলে পরিবহন খরচ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানি থেকেও তারা মুক্ত থাকেন। এই লাভজনক ব্যবসার সুবাদে কৃষকদের অনেকের পক্ষেই পরিবারের আর্থিক চাহিদা মিটিয়ে সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়ার মাটি ও আবহাওয়া এই ধরনের বিদেশি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। স্থানীয় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা যেকোনো রোগবালাই থেকে বাগান রক্ষা করতে পারেন। ফলচাষীদের এই সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও চাকরির পেছনে না ছুটে ফল বাগান তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। কৃষকদের এই দূরদর্শী উদ্যোগ ভবিষ্যতে লোহাগড়া উপজেলাকে দেশের অন্যতম প্রধান ফল উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।