ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo লিহাই গোর্জ-এর রঙিন শরৎ Logo রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষের অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণ Logo সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন Logo শ্রমিক আন্দোলনে পাশের দেশ থেকে ‘মাফিয়ারা’ অপচেষ্টা চালাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo গাবতলী-দাশেরকান্দি মেট্রোরেলের অর্থায়ন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা Logo এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে Logo একনেকে আরেকটি মেগা প্রকল্প: সাকি বললেন, জনগণের প্রয়োজন থেকেই বড় প্রকল্প Logo বাজে লোকগুলো হেরে গেছে: ট্রাম্প, ভ্যান্সকে নিয়ে সেনেটর আল-সায়েদ Logo মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম তরুণী Logo মাইক্রোসফটের পর এবার স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গুগলে

সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন

সারাদেশ ডেস্ক: খুলনার কয়রায় সুন্দরবনকে অপরাধমুক্ত করা, বনজীবীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের উদ্যোগে এবং কয়রা উপজেলা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহযোগিতায় কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের সামনে সাকবাড়িয়া নদীর তীরে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এতে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, বিগত দুই বছর ধরে সুন্দরবনে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সদস্যরা জেলে ও বনজীবীদের পণবন্দী করে মুক্তিপণ আদায় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। কিছু স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীও এই অপরাধমূলক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন বলে তারা দাবি করেন। বিশেষ টোকেন বা নোটের নম্বর ব্যবহার করে বনজীবীদের বনে প্রবেশ করতে বাধ্য করা হয় এবং আগাম টাকা না দিলে বড় অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এর ফলে জীবিকার তাগিদে বনে যাওয়া সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তাই কেবল মূল অপরাধীদের নয়, বরং তাদের স্থানীয় সহযোগীদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বক্তারা আরও জানান যে, সুন্দরবনকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করা কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট সংগঠন বা ব্যক্তির দাবি নয়, এটি সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা এবং তাদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার তাগিদ দেন অংশগ্রহণকারীরা।

জনপ্রিয়

লিহাই গোর্জ-এর রঙিন শরৎ

সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন

প্রকাশিত ০৮:৩৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: খুলনার কয়রায় সুন্দরবনকে অপরাধমুক্ত করা, বনজীবীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের উদ্যোগে এবং কয়রা উপজেলা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহযোগিতায় কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের সামনে সাকবাড়িয়া নদীর তীরে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এতে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, বিগত দুই বছর ধরে সুন্দরবনে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সদস্যরা জেলে ও বনজীবীদের পণবন্দী করে মুক্তিপণ আদায় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। কিছু স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীও এই অপরাধমূলক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন বলে তারা দাবি করেন। বিশেষ টোকেন বা নোটের নম্বর ব্যবহার করে বনজীবীদের বনে প্রবেশ করতে বাধ্য করা হয় এবং আগাম টাকা না দিলে বড় অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এর ফলে জীবিকার তাগিদে বনে যাওয়া সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তাই কেবল মূল অপরাধীদের নয়, বরং তাদের স্থানীয় সহযোগীদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বক্তারা আরও জানান যে, সুন্দরবনকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করা কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট সংগঠন বা ব্যক্তির দাবি নয়, এটি সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা এবং তাদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার তাগিদ দেন অংশগ্রহণকারীরা।