ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাংলাদেশের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ভারত: জয়সওয়াল Logo বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা বললেন ট্রাম্প Logo নোবিপ্রবিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে চতুর্থ ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্ট Logo জাতিসংঘে স্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প Logo ইবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নেপথ্যে যা ছিল Logo ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ Logo শিশুদের ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে মেসির ৩৬ কোটি টাকা অনুদান Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী Logo বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ Logo ক্যাম্পাস ও কর্পোরেটের সংযোগে ৫৪ বিশ্ববিদ্যলয়ের ৬৬ শিক্ষার্থী

পঞ্চাশ বছর পর ইরানের আকাশে ফের রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু, বাড়ছে কৌতূহল

পঞ্চাশ বছর পর ইরানের আকাশে ফের রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু, বাড়ছে কৌতূহল

পঞ্চাশ বছর পর আবারও ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে দেখা গেছে রহস্যময় এক উজ্জ্বল বস্তু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ভিডিওতে রাতের আকাশে বহু রঙের আলো ছড়ানো একটি বস্তু ধীরে ধীরে চলতে বা ভেসে থাকতে দেখা যায়। তবে বস্তুটির প্রকৃতি, উচ্চতা, আকার কিংবা অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ এটিকে সামরিক ড্রোন, কেউ একাধিক ড্রোন, আবার কেউ বিমান বা অন্য কোনো উড়ন্ত বস্তু বলে দাবি করছেন। তবে এসব দাবির কোনোটিই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই বা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষও প্রকাশ্যে বস্তুটির পরিচয় সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওগুলোর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বস্তুটির বহু রঙের উজ্জ্বল আলো। স্বল্প দৈর্ঘ্যের এসব ফুটেজে দূরত্ব, আকার বা উচ্চতা নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ফলে শুধু ভিডিও দেখে এটি ড্রোন, বিমান, ঘুড়ি কিংবা অন্য কোনো বস্তু—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ঠিক ৫০ বছর আগেও ঘটেছিল এমন রহস্যময় ঘটনা

নতুন এই ভিডিও আরও বেশি আলোচনায় এসেছে ১৯৭৬ সালের একটি বহুল আলোচিত তেহরান ঘটনার সঙ্গে সময়ের মিল থাকার কারণে।

১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তেহরানের শেমিরান এলাকার বাসিন্দারা আকাশে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখার কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় ইম্পেরিয়াল ইরানিয়ান এয়ার ফোর্সের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করতে এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতেও লিপিবদ্ধ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, প্রথম এফ-৪ বিমানটি অজ্ঞাত বস্তুটির কাছে যাওয়ার সময় এর যন্ত্রপাতি ও যোগাযোগব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। পাইলট ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেগুলো আবার সচল হয়। পরে দ্বিতীয় একটি এফ-৪ পাঠানো হয় এবং সেটি রাডারে বস্তুটিকে শনাক্ত করার কথা জানানো হয়।

নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, দ্বিতীয় বিমানটি বস্তুটির দিকে অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয় এবং যোগাযোগব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়। তবে এসব ঘটনা ১৯৭৬ সালের প্রত্যক্ষদর্শী ও সামরিক প্রতিবেদনের বর্ণনা এগুলোকে কোনো অতিপ্রাকৃত বা ভিনগ্রহের যান হিসেবে প্রমাণ করে না।

নতুন ঘটনার সঙ্গে পুরোনোটির যোগসূত্র আছে?

এখন পর্যন্ত ১৯৭৬ সালের ঘটনা এবং ২০২৬ সালের নতুন ভিডিওর মধ্যে কোনো প্রমাণিত যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। সময়ের মিল এবং তেহরানের একই আকাশসীমা নিয়ে আলোচনার কারণেই মূলত পুরোনো ঘটনাটি আবার সামনে এসেছে। নতুন ফুটেজটির সত্যতা ও উৎস নিয়েও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা মজার মন্তব্য। কেউ একে ‘আলাদিনের উড়ন্ত গালিচা’ বলে ঠাট্টা করেছেন, কেউ বলেছেন এটি চীনের এলইডি বাতির মতো কিছু। আবার কেউ রসিকতা করে প্রশ্ন তুলেছেন‘এলিয়েনরা এত সস্তা আরজিবি লাইট কেন ব্যবহার করছে?’

তবে রসিকতা ও জল্পনা যতই থাকুক, মূল প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা তেহরানের রাতের আকাশে আসলে কী উড়ছিল?

ইরানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা অথবা ভিডিওটির নির্ভরযোগ্য উৎস ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ পাওয়া গেলে রহস্যটির সমাধান হতে পারে। আপাতত এটিকে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে; ভিনগ্রহের যান বা ইউএফও হিসেবে এর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ভারত: জয়সওয়াল

পঞ্চাশ বছর পর ইরানের আকাশে ফের রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু, বাড়ছে কৌতূহল

প্রকাশিত ০৯:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চাশ বছর পর আবারও ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে দেখা গেছে রহস্যময় এক উজ্জ্বল বস্তু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ভিডিওতে রাতের আকাশে বহু রঙের আলো ছড়ানো একটি বস্তু ধীরে ধীরে চলতে বা ভেসে থাকতে দেখা যায়। তবে বস্তুটির প্রকৃতি, উচ্চতা, আকার কিংবা অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ এটিকে সামরিক ড্রোন, কেউ একাধিক ড্রোন, আবার কেউ বিমান বা অন্য কোনো উড়ন্ত বস্তু বলে দাবি করছেন। তবে এসব দাবির কোনোটিই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই বা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষও প্রকাশ্যে বস্তুটির পরিচয় সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওগুলোর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বস্তুটির বহু রঙের উজ্জ্বল আলো। স্বল্প দৈর্ঘ্যের এসব ফুটেজে দূরত্ব, আকার বা উচ্চতা নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ফলে শুধু ভিডিও দেখে এটি ড্রোন, বিমান, ঘুড়ি কিংবা অন্য কোনো বস্তু—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ঠিক ৫০ বছর আগেও ঘটেছিল এমন রহস্যময় ঘটনা

নতুন এই ভিডিও আরও বেশি আলোচনায় এসেছে ১৯৭৬ সালের একটি বহুল আলোচিত তেহরান ঘটনার সঙ্গে সময়ের মিল থাকার কারণে।

১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তেহরানের শেমিরান এলাকার বাসিন্দারা আকাশে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখার কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় ইম্পেরিয়াল ইরানিয়ান এয়ার ফোর্সের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করতে এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতেও লিপিবদ্ধ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, প্রথম এফ-৪ বিমানটি অজ্ঞাত বস্তুটির কাছে যাওয়ার সময় এর যন্ত্রপাতি ও যোগাযোগব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। পাইলট ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেগুলো আবার সচল হয়। পরে দ্বিতীয় একটি এফ-৪ পাঠানো হয় এবং সেটি রাডারে বস্তুটিকে শনাক্ত করার কথা জানানো হয়।

নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, দ্বিতীয় বিমানটি বস্তুটির দিকে অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয় এবং যোগাযোগব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়। তবে এসব ঘটনা ১৯৭৬ সালের প্রত্যক্ষদর্শী ও সামরিক প্রতিবেদনের বর্ণনা এগুলোকে কোনো অতিপ্রাকৃত বা ভিনগ্রহের যান হিসেবে প্রমাণ করে না।

নতুন ঘটনার সঙ্গে পুরোনোটির যোগসূত্র আছে?

এখন পর্যন্ত ১৯৭৬ সালের ঘটনা এবং ২০২৬ সালের নতুন ভিডিওর মধ্যে কোনো প্রমাণিত যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। সময়ের মিল এবং তেহরানের একই আকাশসীমা নিয়ে আলোচনার কারণেই মূলত পুরোনো ঘটনাটি আবার সামনে এসেছে। নতুন ফুটেজটির সত্যতা ও উৎস নিয়েও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা মজার মন্তব্য। কেউ একে ‘আলাদিনের উড়ন্ত গালিচা’ বলে ঠাট্টা করেছেন, কেউ বলেছেন এটি চীনের এলইডি বাতির মতো কিছু। আবার কেউ রসিকতা করে প্রশ্ন তুলেছেন‘এলিয়েনরা এত সস্তা আরজিবি লাইট কেন ব্যবহার করছে?’

তবে রসিকতা ও জল্পনা যতই থাকুক, মূল প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা তেহরানের রাতের আকাশে আসলে কী উড়ছিল?

ইরানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা অথবা ভিডিওটির নির্ভরযোগ্য উৎস ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ পাওয়া গেলে রহস্যটির সমাধান হতে পারে। আপাতত এটিকে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে; ভিনগ্রহের যান বা ইউএফও হিসেবে এর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।