যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বুলডোজার দিয়ে মাটি সরানোর সময় প্রায় ৯ কেজি ওজনের বিশাল এক প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ডের সন্ধান পেয়েছিলেন এক খনি শ্রমিক। পরে এটি আলাস্কায় পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড হিসেবে পরিচিতি পায়।
১৯৯৮ সালে আলাস্কার রুবি শহরের কাছে সুইফট ক্রিক এলাকায় মাটি সরানোর কাজ করছিলেন খনি শ্রমিক ব্যারি ক্লে। একপর্যায়ে বুলডোজার দিয়ে সরানো মাটির স্তূপে ভারী একটি বস্তু দেখতে পান তিনি। প্রথমে সেটিকে সাধারণ পাথর মনে হলেও কাছে গিয়ে পরীক্ষা করার পর তার সন্দেহ হয়।
পরে বস্তুটি পরিষ্কার করতেই বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য সেটি ছিল সোনা ও কোয়ার্টজের সমন্বয়ে তৈরি বিশাল এক প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড।
‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ নামে পরিচিত এই পিণ্ডটির ওজন ২৯৪ দশমিক ১০ ট্রয় আউন্স, অর্থাৎ প্রায় ৯ দশমিক ১৪ কেজি। আকারে এটি প্রায় একটি শিশুর মাথার সমান।
তৎকালীন হিসাবে, পশ্চিম গোলার্ধে আবিষ্কৃত সোনার পিণ্ডগুলোর মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম। এর চেয়ে বড় ছিল ১৯৮৯ সালে মেক্সিকোতে পাওয়া প্রায় ২৪ পাউন্ড ওজনের ‘বুট অব কর্টেজ’।
আলাস্কার ঐতিহাসিক ক্লনডাইক গোল্ড রাশের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পিণ্ডটির নাম দেওয়া হয় ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’। পরে আলাস্কার কর্মকর্তারা এটিকে অঙ্গরাজ্যে পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেন।
আবিষ্কারের পরপরই সোনার পিণ্ডটি বিক্রি করেননি ব্যারি ক্লে। দুই দশকেরও বেশি সময় এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় ছিল। পরে ২০২১ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ক্লের কাছ থেকে পিণ্ডটি সংগ্রহ করা এক বিক্রেতা এটি যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে হেরিটেজ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করেন।
অনলাইন নিলামে এক সংগ্রাহক ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে সোনার পিণ্ডটি কিনে নেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’-এর গুরুত্ব শুধু এর বিপুল সোনার মূল্যেই নয়, এর বিরলতার কারণেও। এত বড় আকারের এবং তুলনামূলক ভালো অবস্থায় সংরক্ষিত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড বিশ্বে অত্যন্ত বিরল।
১৯৯৮ সালে রুবি শহরের কাছে সুইফট ক্রিক এলাকায় ব্যারি ক্লের এই আবিষ্কার তাই আলাস্কার সোনার খনির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।


































