ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাল্যবিবাহ ঠেকাতে ইউএনওর দ্বারস্থ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন Logo বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিহত একজন, নিখোঁজ ৪ Logo কুবির ভর্তি পরীক্ষা ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি, আবেদন শুরু ১৫ নভেম্বর Logo নীলফামারী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির আত্মপ্রকাশ ও নবীনবরণ Logo কামরাঙ্গীরচরে নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার Logo অডিও ভাইরাল হওয়া ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার Logo আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি হান্নান মাসউদকে ঘিরে উত্তেজনা, হাতাহাতি Logo শ্রীপুরে সন্তানদের সামনে নারীকে ধর্ষণ, ২ ব্যক্তি আটক Logo বিকাশ, রবিসহ পাঁচ প্রতিষ্ঠান পেল ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন Logo শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ

রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল

মাদ্রাসা শিক্ষায় কোরআনে হাফেজ হওয়ার পথ মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কঠিন পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন ওহিদুল ইসলাম। পেটের টানে প্রথমে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে জীবন চালানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন রিকশা চালানো। তবে অভাবের তাড়নায় ক্লান্ত এই যুবকের জীবনে কয়েক বছর আগে বড় ধরনের এক মোড় আসে, যখন তিনি জড়িয়ে পড়েন সাইবার অপরাধ বা হ্যাকিংয়ের অন্ধ দুনিয়ায়। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এই অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে আসেন।

প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় শিক্ষা বা কারিগরি ডিগ্রি না থাকলেও সহজাত বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে ওহিদুল অল্পদিনেই হ্যাকিংয়ের বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেন। সাধারণ পেশার আড়ালে তিনি গড়ে তোলেন সাইবার অপরাধের এক সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ পরিচালনা করা হতো। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ জীবনযাপন করলেও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা সম্পত্তির পাহাড় গড়তে সক্ষম হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অপরাধের এই রাজত্ব গড়ে তুলতে ওহিদুল অত্যন্ত সুকৌশলী ও চতুরতার পরিচয় দিয়েছিলেন যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়। রিকশাচালক পরিচয়ের আড়ালে তার এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্থানীয়দের পাশাপাশি গোয়েন্দাদেরও অবাক করে দেয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে একজন সাধারণ পরিশ্রমী মানুষ অপরাধের মাধ্যমে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে পারে, ওহিদুলের এই ঘটনাটি তার এক অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

বর্তমানে এই সাইবার অপরাধীর সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ও তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এই চক্রটি কীভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষতি সাধন করছিল, তা উদঘাটনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধ জগতের এই চাঞ্চল্যকর উত্থানের ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয়

বাল্যবিবাহ ঠেকাতে ইউএনওর দ্বারস্থ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন

রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল

প্রকাশিত ০৮:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদ্রাসা শিক্ষায় কোরআনে হাফেজ হওয়ার পথ মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কঠিন পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন ওহিদুল ইসলাম। পেটের টানে প্রথমে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে জীবন চালানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন রিকশা চালানো। তবে অভাবের তাড়নায় ক্লান্ত এই যুবকের জীবনে কয়েক বছর আগে বড় ধরনের এক মোড় আসে, যখন তিনি জড়িয়ে পড়েন সাইবার অপরাধ বা হ্যাকিংয়ের অন্ধ দুনিয়ায়। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এই অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে আসেন।

প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় শিক্ষা বা কারিগরি ডিগ্রি না থাকলেও সহজাত বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে ওহিদুল অল্পদিনেই হ্যাকিংয়ের বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেন। সাধারণ পেশার আড়ালে তিনি গড়ে তোলেন সাইবার অপরাধের এক সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ পরিচালনা করা হতো। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ জীবনযাপন করলেও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা সম্পত্তির পাহাড় গড়তে সক্ষম হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অপরাধের এই রাজত্ব গড়ে তুলতে ওহিদুল অত্যন্ত সুকৌশলী ও চতুরতার পরিচয় দিয়েছিলেন যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়। রিকশাচালক পরিচয়ের আড়ালে তার এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্থানীয়দের পাশাপাশি গোয়েন্দাদেরও অবাক করে দেয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে একজন সাধারণ পরিশ্রমী মানুষ অপরাধের মাধ্যমে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে পারে, ওহিদুলের এই ঘটনাটি তার এক অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

বর্তমানে এই সাইবার অপরাধীর সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ও তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এই চক্রটি কীভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষতি সাধন করছিল, তা উদঘাটনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধ জগতের এই চাঞ্চল্যকর উত্থানের ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।