প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি বান্দরবান পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও নানা সংকটের কারণে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো পর্যটক পাহাড়ের রূপ লাবণ্য উপভোগ করতে এই জেলায় ছুটে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন খাতের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থাকায় ভ্রমণপিপাসুদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে সম্ভাবনাময় এই খাতটি পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে পারছে না।
বান্দরবানের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলো নিভে অন্ধকার নামলেই গোটা পর্যটন শহরে এক ধরণের নিস্তব্ধতা নেমে আসে। শহরের আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দর্শনার্থীরা বিকেল নাগাদ শহরে ফিরে আসেন, কিন্তু সান্ধ্যকালীন বিনোদনের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় তাদের রাতে হোটেল কক্ষের চার দেওয়ালে বন্দি থাকতে হয়। পরিবার-পরিজন ও শিশুদের নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সময় কাটানোর মতো কোনো আধুনিক পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় তাদের ভ্রমণ আনন্দ অনেকাংশেই ম্লান হয়ে যায়।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের কারণে বান্দরবানে মৌলিক উন্নয়নমূলক কাজগুলো থমকে আছে। জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগের অভাবের কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও পর্যটকদের চিত্তবিনোদনের জন্য একটি আধুনিক ওয়াকওয়ে বা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। দায়িত্ব পালনে অনীহা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের অবসান না ঘটলে স্থানীয় নাগরিক ও পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
পাহাড়ের এই পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সান্ধ্যকালীন বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী খাবারের মেলা এবং হস্তশিল্পের বাজার গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের একঘেয়েমি কাটার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও চাঙা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং সব মহলের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল বান্দরবানের পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।





































