প্রবাস ডেস্ক: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন অসংখ্য প্রবাসী শ্রমিক। রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় এবং বিকল্প গন্তব্যের টিকিটের চড়া দামের কারণে যাত্রীরা চরম আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে বিমানবন্দরে ভিড় করছেন।
সৌদি আরবের চারটি প্রধান বিমানবন্দরের মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও মদিনা, দাম্মাম ও জেদ্দার কার্যক্রম আংশিক সচল রয়েছে। তবে রিয়াদের যাত্রীদের জন্য বিকল্প হিসেবে অন্য বিমানবন্দরে যাওয়ার টিকিট কাটতে গেলে অতিরিক্ত খরচের বোঝা চেপেছে প্রবাসীদের ঘাড়ে। অনেক যাত্রী জানান, ট্রাভেল এজেন্সি ও এয়ারলাইন্সগুলো অতিরিক্ত মূল্যের বিজনেস ক্লাসের টিকিট কিনতে বাধ্য করছে, যা সাধারণ প্রবাসীদের সামর্থ্যের বাইরে। কুষ্টিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা বেশ কয়েকজন যাত্রী ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া এবং নিয়োগকর্তার কড়া নির্দেশনার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা বলছেন, তারা সৌদি আরবে থাকতেই আসা-যাওয়ার টিকিট কেটে এসেছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেক নিয়োগকর্তা বা কফিল ছুটির মেয়াদ বাড়াতে রাজি হচ্ছেন না এবং অতিরিক্ত ভাড়ার টাকাও দিতে চাচ্ছেন না। বিমানবন্দর টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো পরিষ্কার সমাধান পাচ্ছেন না। কেউ কেউ আবার ফ্লাইট বাতিলের সঠিক কারণ জানতে সরাসরি বিমানবন্দরে ছুটে এসেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, রিয়াদের যাত্রীদের মদিনা বা দাম্মাম বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে বিনা খরচে তা সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় দীর্ঘমেয়াদী ফ্লাইট পরিকল্পনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালেও চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা।





































