ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

শিশুর শীতের ঝুঁকি মোকাবেলার প্রস্তুতি

স্বাস্থ্য ডেস্ক: শীতকালে শিশুদের মধ্যে রোটাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আইসিডিডিআরবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। উচ্চ খরচের কারণে বেসরকারিভাবে টিকা দেওয়া নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে গরিব ও সাধারণ পরিবারের শিশুরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত রোটাভাইরাস টিকা শিশুদের মারাত্মক ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা দিতে অত্যন্ত কার্যকর। আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবির গবেষণায় দেখা গেছে, শীতের মৌসুমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বহুগুণ বেড়ে যায়। অথচ বিশ্বের শতাধিক দেশ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা যুক্ত করলেও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আ ন ম তানভীর চৌধুরী জানান, জাতীয় পর্যায়ে এই টিকা চালু করলে সঠিক সরবরাহ এবং কোল্ড চেইন বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। অক্সফোর্ড পপুলেশন হেলথ ডিপার্টমেন্টের গবেষক সিনায়াত মাহজাবিন উল্লেখ করেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এই জীবন রক্ষাকারী টিকা এখনো আমাদের জাতীয় কর্মসূচিতে আসেনি।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী এই টিকাদান কর্মসূচি চালুর জন্য প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। বাজেট সংকট, নীতিগত অগ্রাধিকারের অভাব এবং অর্থনৈতিক মূল্যায়নের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এটি বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জীবনের প্রথম ১ হাজার দিনে বারবার অসুস্থতা শিশুদের অপুষ্টি ও মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।

সব শিশুর জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং শীতের মারাত্মক ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে জাতীয় টিকাদানে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। টিকা শুধু একটি স্বাস্থ্যগত উদ্যোগ নয়, এটি দেশের প্রতিটি শিশুর সমান সুরক্ষার অধিকার। তাই দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করে জাতীয় পর্যায়ে এর ধারাবাহিক বাস্তবায়ন শুরু করা উচিত।

জনপ্রিয়

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

শিশুর শীতের ঝুঁকি মোকাবেলার প্রস্তুতি

প্রকাশিত ০৮:২২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: শীতকালে শিশুদের মধ্যে রোটাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আইসিডিডিআরবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। উচ্চ খরচের কারণে বেসরকারিভাবে টিকা দেওয়া নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে গরিব ও সাধারণ পরিবারের শিশুরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত রোটাভাইরাস টিকা শিশুদের মারাত্মক ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা দিতে অত্যন্ত কার্যকর। আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবির গবেষণায় দেখা গেছে, শীতের মৌসুমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বহুগুণ বেড়ে যায়। অথচ বিশ্বের শতাধিক দেশ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা যুক্ত করলেও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আ ন ম তানভীর চৌধুরী জানান, জাতীয় পর্যায়ে এই টিকা চালু করলে সঠিক সরবরাহ এবং কোল্ড চেইন বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। অক্সফোর্ড পপুলেশন হেলথ ডিপার্টমেন্টের গবেষক সিনায়াত মাহজাবিন উল্লেখ করেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এই জীবন রক্ষাকারী টিকা এখনো আমাদের জাতীয় কর্মসূচিতে আসেনি।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী এই টিকাদান কর্মসূচি চালুর জন্য প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। বাজেট সংকট, নীতিগত অগ্রাধিকারের অভাব এবং অর্থনৈতিক মূল্যায়নের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এটি বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জীবনের প্রথম ১ হাজার দিনে বারবার অসুস্থতা শিশুদের অপুষ্টি ও মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।

সব শিশুর জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং শীতের মারাত্মক ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে জাতীয় টিকাদানে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। টিকা শুধু একটি স্বাস্থ্যগত উদ্যোগ নয়, এটি দেশের প্রতিটি শিশুর সমান সুরক্ষার অধিকার। তাই দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করে জাতীয় পর্যায়ে এর ধারাবাহিক বাস্তবায়ন শুরু করা উচিত।