ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এত কঠিন কেন

ধর্ম ডেস্ক: অপরের দেওয়া উপহার, ভালোবাসা কিংবা সহযোগিতার মূল্য হৃদয় থেকে স্বীকার করার চমৎকার অনুভূতি হলো কৃতজ্ঞতা। মানুষের সম্পর্ক জটিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানানোর চর্চা অনেকাংশেই হারিয়ে যাচ্ছে, যা নিকটাত্মীয় ও পারিবারিক সম্পর্কের ভেতরেও বেশি দেখা যায়। প্রতিদিনের চেনা গণ্ডিতে একে অপরের অবদানকে স্বাভাবিক দায়িত্ব হিসেবে ধরে নেওয়ার কারণে সম্পর্কে তিক্ততা বাসা বাঁধে।

মানুষের পক্ষে সহজে কৃতজ্ঞ হতে না পারার মূল কারণ লুকিয়ে থাকে তার নিজের অন্তরের গঠন ও নফসের কৃপণতার ভেতরে। ইসলামি জীবনদর্শন অনুযায়ী মানুষের আত্মায় কিছুটা স্বার্থপরতা থাকে, ফলে অন্যের ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া তার জন্য কিছুটা কঠিন হয়। আত্মাকে কৃপণতা থেকে মুক্ত করে উদার হিসেবে গড়ে তোলা এবং এই কৃপণতা জয় করাকেই সফলতার চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

প্রকৃত ধার্মিকতা বা তাকওয়ার সঙ্গে কৃতজ্ঞতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং একজন খোদাভীরু মানুষ সবসময় মানুষের অবদানের কথা স্মরণ রাখে। সৃষ্টির প্রতি কৃতজ্ঞ হতে না পারলে সৃষ্টিকর্তার প্রতিও কৃতজ্ঞ হওয়া যায় না বলে ইসলামে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইমাম গাজালির মতে, অন্তরের কৃপণতা ও অহংকার মুছে না গেলে মানুষ খাঁটি কৃতজ্ঞ হতে পারে না এবং তাকওয়া মানুষকে অন্যের উপকারের স্বীকৃতি দিতে শেখায়।

অন্যদিকে, মানুষের মন থেকে কৃতজ্ঞতার বোধ মুছে দেওয়া শয়তানের সুপ্রাচীন চক্রান্ত ও কৌশল। ইবলিস বেহেশত থেকে বিতাড়িত হয়ে মানুষকে অকৃতজ্ঞ বানিয়ে ছাড়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল, যা মানুষের উন্নাসিক আচরণে প্রকাশ পায়। তাই ছোট ছোট বিষয়ে ধন্যবাদ জানানো এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস মানুষকে মানসিকভাবে সুখী ও সুস্থ রাখে।

জনপ্রিয়

ক্লাসের বাইরেও শিক্ষার্থীদের পড়ান তিনি

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এত কঠিন কেন

প্রকাশিত ০৯:২২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক: অপরের দেওয়া উপহার, ভালোবাসা কিংবা সহযোগিতার মূল্য হৃদয় থেকে স্বীকার করার চমৎকার অনুভূতি হলো কৃতজ্ঞতা। মানুষের সম্পর্ক জটিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানানোর চর্চা অনেকাংশেই হারিয়ে যাচ্ছে, যা নিকটাত্মীয় ও পারিবারিক সম্পর্কের ভেতরেও বেশি দেখা যায়। প্রতিদিনের চেনা গণ্ডিতে একে অপরের অবদানকে স্বাভাবিক দায়িত্ব হিসেবে ধরে নেওয়ার কারণে সম্পর্কে তিক্ততা বাসা বাঁধে।

মানুষের পক্ষে সহজে কৃতজ্ঞ হতে না পারার মূল কারণ লুকিয়ে থাকে তার নিজের অন্তরের গঠন ও নফসের কৃপণতার ভেতরে। ইসলামি জীবনদর্শন অনুযায়ী মানুষের আত্মায় কিছুটা স্বার্থপরতা থাকে, ফলে অন্যের ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া তার জন্য কিছুটা কঠিন হয়। আত্মাকে কৃপণতা থেকে মুক্ত করে উদার হিসেবে গড়ে তোলা এবং এই কৃপণতা জয় করাকেই সফলতার চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

প্রকৃত ধার্মিকতা বা তাকওয়ার সঙ্গে কৃতজ্ঞতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং একজন খোদাভীরু মানুষ সবসময় মানুষের অবদানের কথা স্মরণ রাখে। সৃষ্টির প্রতি কৃতজ্ঞ হতে না পারলে সৃষ্টিকর্তার প্রতিও কৃতজ্ঞ হওয়া যায় না বলে ইসলামে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইমাম গাজালির মতে, অন্তরের কৃপণতা ও অহংকার মুছে না গেলে মানুষ খাঁটি কৃতজ্ঞ হতে পারে না এবং তাকওয়া মানুষকে অন্যের উপকারের স্বীকৃতি দিতে শেখায়।

অন্যদিকে, মানুষের মন থেকে কৃতজ্ঞতার বোধ মুছে দেওয়া শয়তানের সুপ্রাচীন চক্রান্ত ও কৌশল। ইবলিস বেহেশত থেকে বিতাড়িত হয়ে মানুষকে অকৃতজ্ঞ বানিয়ে ছাড়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল, যা মানুষের উন্নাসিক আচরণে প্রকাশ পায়। তাই ছোট ছোট বিষয়ে ধন্যবাদ জানানো এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস মানুষকে মানসিকভাবে সুখী ও সুস্থ রাখে।