স্বাস্থ্য ডেস্ক: রান্নায় স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে রসুনের ব্যবহার দীর্ঘদিনের ভেষজ ঐতিহ্য। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁচা রসুন চিবিয়ে বা থেঁতলে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুরক্ষায় সরাসরি ভূমিকা পালন করে। রসুনের এই অনন্য গুণের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে এর ভেতরে থাকা বিশেষ কিছু সালফারযুক্ত যৌগ ও পুষ্টি উপাদানের মধ্যে।
রসুনে সাধারণ ভিটামিনের পাশাপাশি শক্তিশালী উদ্ভিজ্জ উপাদান এবং অ্যালিন, অ্যালিসিন ও অ্যাজোয়িনের মতো সালফারযুক্ত যৌগ পাওয়া যায়। আস্ত রসুনে সরাসরি অ্যালিসিন থাকে না, বরং কুচি বা থেঁতলে নিলে কোষ ভেঙে অ্যালিনেজ এনজাইমের মাধ্যমে এই ঔষধি যৌগ তৈরি হয়। এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে রসুনের তীব্র ঝাঁঝ ও ঔষধি গুণ উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
নিয়মিত পরিমিত রসুন গ্রহণে রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে এবং রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কিছুটা হ্রাস পায়। এছাড়া এর জীবাণু-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য সাধারণ সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উদ্দীপিত করে। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা গুরুতর অসুস্থতায় রসুন কখনোই চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না এবং এটি কেবল খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কাজ করে।
রসুনের সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পেতে হলে কোয়াগুলো সরাসরি গিলে না খেয়ে কুচি বা থেঁতলে দশ মিনিট বাতাসে রেখে দেওয়া উচিত। তবে খালি পেটে অতিরিক্ত কাঁচা রসুন খেলে অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা বা পেটব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের রোগীরা এবং রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনকারীরা কাঁচা রসুন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।




































