আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্যালেস্টাইনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংঘাতে বিগত অক্টোবর মাস থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত সাড়ে তিন শ ফিলিস্তিনি শিশু অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতিতে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। ফিলিস্তিনি শিশুদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই প্রবণতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা মুক্তির নির্দিষ্ট সময় ছাড়াই এসব শিশুকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হচ্ছে। এর ফলে কোমলমতি এই শিশুরা তাদের পরিবার এবং শিক্ষাজীবন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকার ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছে। অবরুদ্ধ গাজায় বহু মানুষ নিখোঁজ ও গুম থাকায় ঠিক কত শিশুকে আটক করা হয়েছে, তার প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
গ্রেপ্তারের পর শিশুদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক নির্যাতন, অনাহারে রাখা এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ওফার কারাগারে বন্দি থাকা ১৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ হামিদের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়, যিনি চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পা হারান। এছাড়া মেগিদ্দো কারাগারে বন্দি ১৭ বছর বয়সী কিশোর ওয়ালিদ আহমেদের অনাহারে মৃত্যুর বিষয়টিও সামনে এসেছে, যার তদন্ত কার্যক্রম পরবর্তীতে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল ফিলিস্তিনিরাই নয় বরং কোনো অভিযোগ ছাড়াই একাধিক মার্কিন পাসপোর্টধারী অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককেও বন্দি রেখেছে ইসরায়েল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের চাপে কিছু কিশোর মুক্তি পেলেও অনেকের ক্ষেত্রে জামিন বাতিল করা হয়েছে কিংবা প্রাপ্তবয়স্কদের সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েলি কারাগারে শিশুদের নির্বিচার বন্দিদশা, নির্যাতন এবং অনাহারে রাখার মতো ঘটনাগুলো বন্ধে অবিলম্বে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে প্যালেস্টাইনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটি।




































