ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ‘মাদার ট্রি’ রক্ষার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর Logo ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে ইরানে হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র Logo রোহিঙ্গা শিশুদের অপহরণের টোপ ‘খেলার সাথী’ Logo ঢাকায় ‘প্রমিথিউস’ ব্যান্ডের পুনর্মিলনী, স্মৃতিচারণায় চার দশক Logo ময়মনসিংহে স্কুলে মারামারি: ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, বদলির সুপারিশ Logo দুর্নীতি মামলা: আসাদুজ্জামান নূর-জ্যাকবের মামলায় প্রতিবেদন জমার দিন পেছাল Logo কেন এমন অসময়ে চলে গেলেন,তৌফিক? Logo চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মার্কিন ৮ অঙ্গরাজ্যের নজিরবিহীন মামলা Logo মুন্সীগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের জীবনাবসান

কেন এমন অসময়ে চলে গেলেন,তৌফিক?

গণমাধ্যম ডেস্ক: সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ দেশে ফিরে আসার পর তার আকস্মিক প্রয়াণ সহজে মেনে নিতে পারছেন না ঘনিষ্টজনেরা। মৃত্যুর কিছুদিন আগে এক আকস্মিক আমন্ত্রণে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, যেখানে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। অথচ সেই সাক্ষাতের মাত্র দশ দিন পরেই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক সুব্রতশংকর ধর এক স্মৃতিচারণমূলক লেখায় এই প্রয়াণের বেদনা প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নিষ্ঠা ও কর্মতৎপরতা সবার নজর কেড়েছিল। দ্য ডেইলি স্টার দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করা তৌফিক পরবর্তীতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার যোগ্য নেতৃত্ব ও সম্পাদনায় পোর্টালটি দেশে এবং প্রবাসে বাঙালিদের জন্য আস্থার একটি অন্যতম প্রধান জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পুঁজি ও ক্ষমতার প্রভাবের বাইরে থেকে সংবাদমাধ্যমকে একটি স্বতন্ত্র চরিত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তৌফিক ইমরোজ খালিদী তার সম্পাদকীয় নীতিতে ছিলেন সম্পূর্ণ অবিচল। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে তিনি সবসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিকূল ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। তার এই দৃঢ় মানসিকতাই তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

জীবনের শেষভাগে এসেও তিনি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করে গেছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্যেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তিন ভলিউমের ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এমন দুঃসময়ে এই ধরনের গ্রন্থ প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন হলেও তিনি তা অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। দেশের এই ঘোর অমানিশায় এমন একজন অকুতোভয় মানুষের প্রয়াণ এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।

জনপ্রিয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কেন এমন অসময়ে চলে গেলেন,তৌফিক?

প্রকাশিত ০৩:৫২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

গণমাধ্যম ডেস্ক: সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ দেশে ফিরে আসার পর তার আকস্মিক প্রয়াণ সহজে মেনে নিতে পারছেন না ঘনিষ্টজনেরা। মৃত্যুর কিছুদিন আগে এক আকস্মিক আমন্ত্রণে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, যেখানে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। অথচ সেই সাক্ষাতের মাত্র দশ দিন পরেই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক সুব্রতশংকর ধর এক স্মৃতিচারণমূলক লেখায় এই প্রয়াণের বেদনা প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নিষ্ঠা ও কর্মতৎপরতা সবার নজর কেড়েছিল। দ্য ডেইলি স্টার দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করা তৌফিক পরবর্তীতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার যোগ্য নেতৃত্ব ও সম্পাদনায় পোর্টালটি দেশে এবং প্রবাসে বাঙালিদের জন্য আস্থার একটি অন্যতম প্রধান জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পুঁজি ও ক্ষমতার প্রভাবের বাইরে থেকে সংবাদমাধ্যমকে একটি স্বতন্ত্র চরিত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তৌফিক ইমরোজ খালিদী তার সম্পাদকীয় নীতিতে ছিলেন সম্পূর্ণ অবিচল। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে তিনি সবসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিকূল ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। তার এই দৃঢ় মানসিকতাই তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

জীবনের শেষভাগে এসেও তিনি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করে গেছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্যেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তিন ভলিউমের ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এমন দুঃসময়ে এই ধরনের গ্রন্থ প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন হলেও তিনি তা অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। দেশের এই ঘোর অমানিশায় এমন একজন অকুতোভয় মানুষের প্রয়াণ এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।