কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে দেশের প্রাচীন ও শক্তিশালী গাছগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপে দেশের বনায়ন প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় বনের সবচেয়ে পুরনো ও বড় গাছগুলোকে ‘মাদার ট্রি’ হিসেবে চিহ্নিত করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাধারণত এই গাছগুলো মাটির নিচের মাইকোরিজাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আশেপাশের ছোট চারাগাছে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে এবং নানা বিপদে সতর্ক সংকেত পাঠায়। গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা চারাগুলো সঠিকভাবে বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর নতুন উপায় খোঁজার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
রাজধানীর বায়ু দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশের জন্য লজ্জাজনক। এই পরিস্থিতি বদলাতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। সরকারি কর্মকর্তাদের কেবল নির্ধারিত চাকরির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের জন্য আরও বেশি উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দেন সরকারপ্রধান। পরিবেশ ভালো না থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে দেশ ও মানুষের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশে মোট ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী গাছ লাগাতে ব্যর্থ হলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সেই ঘাটতি পূরণ করবে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বনায়ন কর্মসূচি সফল হবে এবং এর সুফল দেশের সব মানুষ ভোগ করবে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।




































