ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ‘মাদার ট্রি’ রক্ষার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর Logo ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে ইরানে হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র Logo রোহিঙ্গা শিশুদের অপহরণের টোপ ‘খেলার সাথী’ Logo ঢাকায় ‘প্রমিথিউস’ ব্যান্ডের পুনর্মিলনী, স্মৃতিচারণায় চার দশক Logo ময়মনসিংহে স্কুলে মারামারি: ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, বদলির সুপারিশ Logo দুর্নীতি মামলা: আসাদুজ্জামান নূর-জ্যাকবের মামলায় প্রতিবেদন জমার দিন পেছাল Logo কেন এমন অসময়ে চলে গেলেন,তৌফিক? Logo চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মার্কিন ৮ অঙ্গরাজ্যের নজিরবিহীন মামলা Logo মুন্সীগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের জীবনাবসান

রোহিঙ্গা শিশুদের অপহরণের টোপ ‘খেলার সাথী’

অপরাধ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে শিশুদের অপহরণের এক ভীতিকর চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি ১৯ নম্বর ক্যাম্পের সি-১৫ ব্লকের বাসিন্দা আব্দু রহমানের ছয় বছর বয়সী ছেলেকে খেলার মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন পর অপহরণকারীরা শিশুটিকে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখার একটি ভিডিও পাঠিয়ে সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অসহায় এই পিতা প্রথমে কিছু টাকা দিলেও পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার ও মসজিদের চাঁদার মাধ্যমে মোট দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে সন্তানকে উদ্ধার করেন। আশ্রয় শিবিরের অন্যান্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অপহরণকারীরা শিশুদের নানা লোভ দেখিয়ে ও খেলার সাথীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, শিশু অপহরণের ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েও অনেক সময় আশানুরূপ সহযোগিতা মেলে না। আব্দু রহমান ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে আবেদন করে সেটি উখিয়া থানায় পাঠালেও তেমন কোনো সাড়া পাননি এবং পুলিশ এ বিষয়ে উল্টো প্রশ্ন তুলেছে বলে তার দাবি। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুধু শিশুরাই নয়, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পাহাড়ি এলাকায় বনকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ও রোহিঙ্গাদের অপহরণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের গভীর জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের ভিডিও অভিভাবকদের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। কুতুপালং ক্যাম্পের এমন একটি ভিডিওতে এক শিশুকে ৫০০ টাকা ও জামা কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অন্য শিশুকে অপহরণে ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, নানা জটিলতা ও জিজ্ঞাসাবাদের ঝামেলার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের কাছে যেতে চায় না। অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজা জানিয়েছেন, অপহরণের বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং এপিবিএনের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ক্যাম্পের অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি অপহরণের বিরুদ্ধেও কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন দাবি করেছেন যে তাদের নজরে এমন কোনো অভিযোগ বা ভিডিও আসেনি।

আট বছরের শরণার্থী জীবনে মিয়ানমার ছেড়ে আসার পর এমন আকস্মিক ঘটনা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। অপরাধ চক্রের সদস্যরা শিশুদের টার্গেট করে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আশ্রয় শিবিরের মতো বিশাল ও জনবহুল এলাকায় স্বল্প জনবল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই রোহিঙ্গা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জনপ্রিয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা শিশুদের অপহরণের টোপ ‘খেলার সাথী’

প্রকাশিত ০৪:৫২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে শিশুদের অপহরণের এক ভীতিকর চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি ১৯ নম্বর ক্যাম্পের সি-১৫ ব্লকের বাসিন্দা আব্দু রহমানের ছয় বছর বয়সী ছেলেকে খেলার মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন পর অপহরণকারীরা শিশুটিকে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখার একটি ভিডিও পাঠিয়ে সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অসহায় এই পিতা প্রথমে কিছু টাকা দিলেও পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার ও মসজিদের চাঁদার মাধ্যমে মোট দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে সন্তানকে উদ্ধার করেন। আশ্রয় শিবিরের অন্যান্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অপহরণকারীরা শিশুদের নানা লোভ দেখিয়ে ও খেলার সাথীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, শিশু অপহরণের ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েও অনেক সময় আশানুরূপ সহযোগিতা মেলে না। আব্দু রহমান ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে আবেদন করে সেটি উখিয়া থানায় পাঠালেও তেমন কোনো সাড়া পাননি এবং পুলিশ এ বিষয়ে উল্টো প্রশ্ন তুলেছে বলে তার দাবি। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুধু শিশুরাই নয়, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পাহাড়ি এলাকায় বনকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ও রোহিঙ্গাদের অপহরণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের গভীর জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের ভিডিও অভিভাবকদের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। কুতুপালং ক্যাম্পের এমন একটি ভিডিওতে এক শিশুকে ৫০০ টাকা ও জামা কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অন্য শিশুকে অপহরণে ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, নানা জটিলতা ও জিজ্ঞাসাবাদের ঝামেলার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের কাছে যেতে চায় না। অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজা জানিয়েছেন, অপহরণের বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং এপিবিএনের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ক্যাম্পের অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি অপহরণের বিরুদ্ধেও কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন দাবি করেছেন যে তাদের নজরে এমন কোনো অভিযোগ বা ভিডিও আসেনি।

আট বছরের শরণার্থী জীবনে মিয়ানমার ছেড়ে আসার পর এমন আকস্মিক ঘটনা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। অপরাধ চক্রের সদস্যরা শিশুদের টার্গেট করে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আশ্রয় শিবিরের মতো বিশাল ও জনবহুল এলাকায় স্বল্প জনবল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই রোহিঙ্গা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।