শিক্ষা ডেস্ক: দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মিলিয়ে বছরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট মান পরিমাপ পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে শিক্ষার আসল মান বাড়াতে সরকারের প্রতি এই তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে শিক্ষা খাতের বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
সংসদীয় কমিটির সভায় দেশের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রায় সত্তর লাখ মেয়ে শিক্ষার্থীকে চার হাজার কোটি টাকার বৃত্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটি পদ্ধতির মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংকে পাঠানোর ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্যও সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোু. সেলিম ভূঁইয়া উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকার শুধু পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকলেও বর্তমান সরকার গুণগত শিক্ষায় বিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেলাতে হলে বছরব্যাপী মূল্যায়নের পাশাপাশি তিন বা ছয় মাস অন্তর শিখনফল মূল্যায়ন চালু করা দরকার। কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বিজ্ঞান ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সূচকে এগিয়ে থাকতে বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়া বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে সরকারের পরিবর্তনেও শিক্ষানীতির মৌলিক কাঠামো বারবার বদল না হয়।
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব জানান যে, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষার উন্নয়নে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নারী শিক্ষার প্রসার ও ঝরে পড়া রোধে বিশেষ বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। অতীতে রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রবীণ শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তির সুপারিশ করেন কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ গবেষণা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে এবং শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণে সংসদ সদস্যরা সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন বলে জানানো হয়।







































