ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo হিলারি ক্লিনটন পুরস্কার পেলেন ইউনূস Logo বিজেপি কেন ‘সরকার বদলের পাঁয়তারা’ দেখছে, কেন আসছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ? Logo প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে; প্রেস সচিব Logo কোনো সম্প্রদায়কে ভোট ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা উচিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শেরপুর সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু-হামের রোগীর ঢল Logo ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার Logo জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দৃশ‍্যত ‘জিম্মিদশায় আবদ্ধ’: টিআইবি Logo শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাতুজ জুম্মা গ্রেপ্তার Logo ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান: জরিমানার অর্থ মৃতদের পরিবারকে দেওয়ার প্রস্তাব দেবেন ডিএসসিসি প্রশাসক Logo প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা-সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

শেরপুর সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু-হামের রোগীর ঢল

স্বাস্থ্য ডেস্ক: শেরপুরে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ দ্রুত বেড়ে চলেছে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা সেবা দিতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বজনেরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ, মশারি এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট রয়েছে বলেও সেবাগ্রহীতারা অভিযোগ করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত চারজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিয়াচল্লিশ জনের বেশি এবং বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও প্রায় পঁয়ষট্টি জন রোগী। হামের রোগীদের জন্য পনেরোটি এবং ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ছাব্বিশটি শয্যা নির্ধারিত থাকলেও রোগীর আধিক্যের কারণে সবাইকে শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বেশি দামে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। দরিদ্র পরিবারের রোগীদের জন্য এই বাড়তি খরচের কারণে চিকিৎসাসেবা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহারের কড়া নির্দেশ থাকলেও অনেক রোগী তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। খোলা বারান্দা কিংবা মশার উপদ্রব রয়েছে এমন স্থানে অবস্থান করায় রোগীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবায় মাত্র দুজন নার্স দায়িত্ব পালন করায় সময়মতো সেবা পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। শয্যা ও জনবলের এই ঘাটতি দ্রুত দূর করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। চিকিৎসকদের ধারণা, আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশ অন্য জেলা থেকে সংক্রমিত হয়ে শেরপুরে এসেছেন এবং স্থানীয়ভাবেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান জানান, হামে আক্রান্ত হয়ে জেলায় চার শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সাধ্যমতো তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

হিলারি ক্লিনটন পুরস্কার পেলেন ইউনূস

শেরপুর সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু-হামের রোগীর ঢল

প্রকাশিত ০৯:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: শেরপুরে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ দ্রুত বেড়ে চলেছে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা সেবা দিতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বজনেরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ, মশারি এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট রয়েছে বলেও সেবাগ্রহীতারা অভিযোগ করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত চারজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিয়াচল্লিশ জনের বেশি এবং বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও প্রায় পঁয়ষট্টি জন রোগী। হামের রোগীদের জন্য পনেরোটি এবং ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ছাব্বিশটি শয্যা নির্ধারিত থাকলেও রোগীর আধিক্যের কারণে সবাইকে শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বেশি দামে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। দরিদ্র পরিবারের রোগীদের জন্য এই বাড়তি খরচের কারণে চিকিৎসাসেবা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহারের কড়া নির্দেশ থাকলেও অনেক রোগী তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। খোলা বারান্দা কিংবা মশার উপদ্রব রয়েছে এমন স্থানে অবস্থান করায় রোগীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবায় মাত্র দুজন নার্স দায়িত্ব পালন করায় সময়মতো সেবা পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। শয্যা ও জনবলের এই ঘাটতি দ্রুত দূর করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। চিকিৎসকদের ধারণা, আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশ অন্য জেলা থেকে সংক্রমিত হয়ে শেরপুরে এসেছেন এবং স্থানীয়ভাবেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান জানান, হামে আক্রান্ত হয়ে জেলায় চার শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সাধ্যমতো তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।