ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় ৪১২ কোটি ডলার: তিতুমীর

অর্থনীতি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি ও সার আমদানিতে অতিরিক্ত চারশ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার একটি কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি উল্লেখ করেন যে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দুর্বল অর্থনীতি এবং মূল্যস্ফীতির মধ্যেও বর্তমান সরকার বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাতারবাড়ীকে একটি জ্বালানি হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তಿಯನ್ನು শক্তিশালী করতে উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে উপদেষ্টা জানান যে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচন। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং দেশের উৎপাদন খাতকে গতিশীল করার কাজও চলমান রয়েছে। শিক্ষিত তরুণ সমাজের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা বর্তমান সময়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর থেকে চাপ কমাতে সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষিঋণ মওকুফ করা, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান যে প্রবৃদ্ধির প্রকৃত গতিপথ নির্ভর করবে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা এগিয়ে চলেছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাসমান সংরক্ষণ ইউনিট স্থাপনের কাজ চলছে। ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করা এবং পণ্য পরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিজিএমইএ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতিসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জনপ্রিয়

দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন: নাহিদ

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় ৪১২ কোটি ডলার: তিতুমীর

প্রকাশিত ০৭:০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি ও সার আমদানিতে অতিরিক্ত চারশ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার একটি কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি উল্লেখ করেন যে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দুর্বল অর্থনীতি এবং মূল্যস্ফীতির মধ্যেও বর্তমান সরকার বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাতারবাড়ীকে একটি জ্বালানি হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তಿಯನ್ನು শক্তিশালী করতে উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে উপদেষ্টা জানান যে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচন। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং দেশের উৎপাদন খাতকে গতিশীল করার কাজও চলমান রয়েছে। শিক্ষিত তরুণ সমাজের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা বর্তমান সময়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর থেকে চাপ কমাতে সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষিঋণ মওকুফ করা, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান যে প্রবৃদ্ধির প্রকৃত গতিপথ নির্ভর করবে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা এগিয়ে চলেছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাসমান সংরক্ষণ ইউনিট স্থাপনের কাজ চলছে। ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করা এবং পণ্য পরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিজিএমইএ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতিসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।