ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নিজের ভাগ্যের চাকা নিজেই যেভাবে ঘোরাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: অনেকেই মনে করেন সৌভাগ্য একটি অলৌকিক বিষয়, যা কেবল জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয় এবং এর পেছনে কোনো হাত নেই। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীদের মতে ভাগ্য কোনো আকাশ থেকে পড়া শক্তি নয়, বরং এটি মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতারই একটি প্রতিফলন। মানুষ চাইলে নিজের মনস্তত্ত্ব এবং অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে সুনির্দিষ্ট উপায়ে নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে নিতে পারেন। যারা নিজেদের ভাগ্যবান বলে মনে করেন, তারা মূলত নমনীয়, আশাবাদী, স্থিতিস্থাপক ও মুক্ত মনের অধিকারী হয়ে থাকেন। বিপরীতে, যারা নিজেদের দুর্ভাগা ভাবেন, তারা অবচেতনভাবেই নেতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে জীবনে খারাপ পরিস্থিতি ডেকে আনেন।

যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডা. রিচার্ড ওয়াইজম্যান দীর্ঘদিন ধরে ভাগ্য নিয়ে চারশ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর ওপর একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালিয়েছেন। তার দশ বছরের এই গবেষণার ফলাফল ‘দ্য লাক ফ্যাক্টর’ বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন যে ভাগ্যবান ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট কিছু আচরণের মাধ্যমে নিজেরাই সুযোগ তৈরি করেন। তারা নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি সদয় থাকেন, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজেদের সহজাত অনুভূতির ওপর ভরসা করেন। এছাড়া তারা সবসময় ইতিবাচক প্রত্যাশা রাখেন এবং কোনো দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও ভেঙে না পড়ে তার ভেتরের ভালো দিকটি খুঁজে নেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে সুযোগ সবার সামনেই আসে, কিন্তু মুক্ত ও শিথিল মনের মানুষেরাই কেবল তা লুফে নিতে পারেন। সমাজবিজ্ঞানে ‘দ্য ম্যাথিউ ইফেক্ট’ নামে একটি তত্ত্ব রয়েছে, যা দিয়ে ভাগ্যের বিষয়টিকেও ব্যাখ্যা করা যায়। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, জীবনের শুরুতে যারা ছোটখাটো ইতিবাচক অভিজ্ঞতা লাভ করেন, তারা পরবর্তীতে আরও বড় সুযোগের সন্ধান করেন। অর্থাৎ সুসংবাদই মানুষের জীবনে আরও নতুন সুসংবাদের পথ উন্মুক্ত করে দেয়, যা আর্থ-সামাজিক ও ব্যক্তিগত উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

নিবন্ধে লেখিকার বাবা-মায়ের জীবনের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লবের সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। মাও সেতুং-এর বিপ্লবের সময় চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তার বাবা নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন যে তিনি একজন ভাগ্যবান মানুষ। আর এই মানসিক জোর ও আশাবাদী বিশ্বাস তাকে জীবনের চরম বিপদের মধ্যেও চারপাশের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ খুঁজে নিতে সাহায্য করেছিল। তাই ভাগ্য কোনো অন্ধ নিয়তি বা লটারি নয়, বরং মন থেকে নেতিবাচক চিন্তা দূর করে সচেতন থাকলে নিজের ভাগ্য অনুকূলে আনা সম্ভব।

জনপ্রিয়

আখাউড়ার ২৯ মন্দিরে পূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ

নিজের ভাগ্যের চাকা নিজেই যেভাবে ঘোরাবেন

প্রকাশিত ০৬:৫২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: অনেকেই মনে করেন সৌভাগ্য একটি অলৌকিক বিষয়, যা কেবল জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয় এবং এর পেছনে কোনো হাত নেই। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীদের মতে ভাগ্য কোনো আকাশ থেকে পড়া শক্তি নয়, বরং এটি মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতারই একটি প্রতিফলন। মানুষ চাইলে নিজের মনস্তত্ত্ব এবং অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে সুনির্দিষ্ট উপায়ে নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে নিতে পারেন। যারা নিজেদের ভাগ্যবান বলে মনে করেন, তারা মূলত নমনীয়, আশাবাদী, স্থিতিস্থাপক ও মুক্ত মনের অধিকারী হয়ে থাকেন। বিপরীতে, যারা নিজেদের দুর্ভাগা ভাবেন, তারা অবচেতনভাবেই নেতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে জীবনে খারাপ পরিস্থিতি ডেকে আনেন।

যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডা. রিচার্ড ওয়াইজম্যান দীর্ঘদিন ধরে ভাগ্য নিয়ে চারশ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর ওপর একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালিয়েছেন। তার দশ বছরের এই গবেষণার ফলাফল ‘দ্য লাক ফ্যাক্টর’ বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন যে ভাগ্যবান ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট কিছু আচরণের মাধ্যমে নিজেরাই সুযোগ তৈরি করেন। তারা নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি সদয় থাকেন, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজেদের সহজাত অনুভূতির ওপর ভরসা করেন। এছাড়া তারা সবসময় ইতিবাচক প্রত্যাশা রাখেন এবং কোনো দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও ভেঙে না পড়ে তার ভেتরের ভালো দিকটি খুঁজে নেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে সুযোগ সবার সামনেই আসে, কিন্তু মুক্ত ও শিথিল মনের মানুষেরাই কেবল তা লুফে নিতে পারেন। সমাজবিজ্ঞানে ‘দ্য ম্যাথিউ ইফেক্ট’ নামে একটি তত্ত্ব রয়েছে, যা দিয়ে ভাগ্যের বিষয়টিকেও ব্যাখ্যা করা যায়। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, জীবনের শুরুতে যারা ছোটখাটো ইতিবাচক অভিজ্ঞতা লাভ করেন, তারা পরবর্তীতে আরও বড় সুযোগের সন্ধান করেন। অর্থাৎ সুসংবাদই মানুষের জীবনে আরও নতুন সুসংবাদের পথ উন্মুক্ত করে দেয়, যা আর্থ-সামাজিক ও ব্যক্তিগত উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

নিবন্ধে লেখিকার বাবা-মায়ের জীবনের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লবের সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। মাও সেতুং-এর বিপ্লবের সময় চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তার বাবা নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন যে তিনি একজন ভাগ্যবান মানুষ। আর এই মানসিক জোর ও আশাবাদী বিশ্বাস তাকে জীবনের চরম বিপদের মধ্যেও চারপাশের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ খুঁজে নিতে সাহায্য করেছিল। তাই ভাগ্য কোনো অন্ধ নিয়তি বা লটারি নয়, বরং মন থেকে নেতিবাচক চিন্তা দূর করে সচেতন থাকলে নিজের ভাগ্য অনুকূলে আনা সম্ভব।