রাজনীতি ডেস্ক: মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়ার ঘটনার জেরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ইশরাক হোসেন। ১৯ অক্টোবর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিগত ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সমর্থক ও নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে তিনি কেবল আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র হাতে রেখেছিলেন। ওই দিন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় কেউ আঘাতপ্রাপ্ত বা সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, সেদিনের ঘটনায় তিনি কোনো ভুল করেননি।
তিনি জানান, ১৯ অক্টোবর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার সদিচ্ছাকে মেনে নিয়েছেন এবং তাঁকে ঢাকা-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূলের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনা নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবর অতিরঞ্জিত ছিল বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম বা প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ যেন ম্লান না হয়, সে বিষয়টিও তিনি বিবেচনায় রেখেছেন।
এর আগে গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘরে অভিযানকালে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায় যে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাব ত্যাগ করার সময়ও তিনি গাড়ির ছাদ থেকে হ্যান্ডমাইকে পদত্যাগের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে গোপীবাগের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।




































