ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রাণের খোঁজে প্রথম মঙ্গলের চাঁদে যাচ্ছে জাপানি মহাকাশযান

প্রযুক্তি ডেস্ক: মঙ্গলের রহস্যময় উপগ্রহ ফোবোস থেকে প্রথমবারের মতো মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে একটি আন্তর্জাতিক মিশন শুরু করতে যাচ্ছে জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা। সম্প্রতি নতুন ফ্ল্যাগশিপ রকেট এইচ৩-এর মাধ্যমে মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন বা এমএমএক্স নামের এই ঐতিহাসিক মিশনটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর মেয়াদী এই বৈজ্ঞানিক অভিযানের মাধ্যমে সৌরজগতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মঙ্গলের দুই উপগ্রহ ফোবোস ও ডিমোসের গঠন রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৬০-এর দশক থেকে লাল গ্রহে ডजन ডজন অভিযান পরিচালিত হলেও এর উপগ্রহগুলো নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও রহস্য কাটেনি। আলু আকৃতির ক্রেটারে ভরা এই উপগ্রহগুলো মঙ্গলের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে তৈরি ধ্বংসাবশেষ নাকি মহাকর্ষে আটকে পড়া বাইরে থেকে আসা গ্রহাণু, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। জাক্সার গবেষক কিওশি কুরামোতো জানিয়েছেন যে সংগৃহীত মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করেই এই দীর্ঘ বিতর্কের একটি নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মিশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইয়াসুহিরো কাওয়াকাতসু উল্লেখ করেছেন যে উপগ্রহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য থাকলেও এগুলো কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ফোবোসকে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও এই নমুনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাপানের নেতৃত্বাধীন এই আন্তর্জাতিক মিশনে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সিসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা প্রযুক্তি ও যোগাযোগ সহায়তা প্রদান করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাকাশযানটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলের কক্ষে পৌঁছাবে এবং পরবর্তী তিন বছর ধরে ফোবোসের চারপাশ থেকে উপাত্ত ও নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশনে ফ্রান্স ও জার্মানির তৈরি একটি বিশেষ রোভারও যুক্ত রয়েছে, যা ফোবোসের মাটিতে নেমে জাপানি যানের নমুনা সংগ্রহের কাজটি সহজ করতে সাহায্য করবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে সংগৃহীত এই মাটি মঙ্গলে অতীতের কোনো অণুজীবের অস্তিত্ব ছিল কি না, তার ঐতিহাসিক সূত্রও উন্মোচন করতে পারে।

জনপ্রিয়

সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল

প্রাণের খোঁজে প্রথম মঙ্গলের চাঁদে যাচ্ছে জাপানি মহাকাশযান

প্রকাশিত ০৮:৩৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: মঙ্গলের রহস্যময় উপগ্রহ ফোবোস থেকে প্রথমবারের মতো মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে একটি আন্তর্জাতিক মিশন শুরু করতে যাচ্ছে জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা। সম্প্রতি নতুন ফ্ল্যাগশিপ রকেট এইচ৩-এর মাধ্যমে মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন বা এমএমএক্স নামের এই ঐতিহাসিক মিশনটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর মেয়াদী এই বৈজ্ঞানিক অভিযানের মাধ্যমে সৌরজগতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মঙ্গলের দুই উপগ্রহ ফোবোস ও ডিমোসের গঠন রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৬০-এর দশক থেকে লাল গ্রহে ডजन ডজন অভিযান পরিচালিত হলেও এর উপগ্রহগুলো নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও রহস্য কাটেনি। আলু আকৃতির ক্রেটারে ভরা এই উপগ্রহগুলো মঙ্গলের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে তৈরি ধ্বংসাবশেষ নাকি মহাকর্ষে আটকে পড়া বাইরে থেকে আসা গ্রহাণু, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। জাক্সার গবেষক কিওশি কুরামোতো জানিয়েছেন যে সংগৃহীত মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করেই এই দীর্ঘ বিতর্কের একটি নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মিশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইয়াসুহিরো কাওয়াকাতসু উল্লেখ করেছেন যে উপগ্রহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য থাকলেও এগুলো কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ফোবোসকে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও এই নমুনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাপানের নেতৃত্বাধীন এই আন্তর্জাতিক মিশনে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সিসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা প্রযুক্তি ও যোগাযোগ সহায়তা প্রদান করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাকাশযানটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলের কক্ষে পৌঁছাবে এবং পরবর্তী তিন বছর ধরে ফোবোসের চারপাশ থেকে উপাত্ত ও নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশনে ফ্রান্স ও জার্মানির তৈরি একটি বিশেষ রোভারও যুক্ত রয়েছে, যা ফোবোসের মাটিতে নেমে জাপানি যানের নমুনা সংগ্রহের কাজটি সহজ করতে সাহায্য করবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে সংগৃহীত এই মাটি মঙ্গলে অতীতের কোনো অণুজীবের অস্তিত্ব ছিল কি না, তার ঐতিহাসিক সূত্রও উন্মোচন করতে পারে।