অর্থনীতি ডেস্ক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, রাজস্ব আদায়ের স্থবিরতা এবং দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। বর্তমানে দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় সাড়ে বায়ান্ন শতাংশ। ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করতে গিয়ে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে যদি সরকারি ব্যয় ক্রমাগত বাড়ানো হয়, তবে বিদ্যমান এই সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও বেতন-ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের পরিচালন ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের যথাযথ ভারসাম্য নিশ্চিত না করা গেলে বাড়তি এই ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট, সরকারের আয় হ্রাস এবং খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি ইতোমধ্যে জটিল হয়ে উঠেছে। অতীতে নেওয়া ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করায় এবং দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে ঋণের বোঝা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং সামাজিক বৈষম্য আরও তীব্র হতে পারে।
বিআইডিএস-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী জানান, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে সরকারকে সবার আগে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। উৎপাদনশীল খাতের বাইরে নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের অপচয় কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা না গেলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।






































