অর্থনীতি ডেস্ক: গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিতীয় দফায় মোট ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সম্প্রতি কারখানাগুলোর মূল ফটকে নোটিশ টানিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাসের অংশ হিসেবে এই কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লে-অফে থাকা এই কারখানাগুলোর শ্রমিকেরা হঠাৎ চাকরি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারার কারণে গত জুন মাস থেকেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে লে-অফ চলছে এবং বিভিন্ন দফায় তার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং অতিরিক্ত জনবলের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এসব কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং তাঁদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে কারখানাগুলোর সামনে ভিড় জমান ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকেরা এবং তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কাজ করা সুইং সেকশনের অপারেটর ইয়াসমিন বেগম ও প্রায় ১৯ বছর ধরে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবেদা বেগম চাকরি হারিয়ে গভীর উৎকণ্ঠার কথা জানান। অন্যদিকে, শ্রমিকদের এভাবে ছাঁটাই করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ এবং অবিলম্বে বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানাগুলোতে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে এই ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মানবসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাইকৃত সব কর্মীর পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।






































