ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

খাবার শেষে এলাচ: মুখের সতেজতা, নাকি হজমেও উপকারী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ভারী বা মসলাদার খাবারের পর মুখ সতেজ করতে একটি এলাচ চিবানোর প্রচলন বেশ পুরোনো। বিরিয়ানি বা কাবাবের মতো খাবার খাওয়ার পর এলাচের সুবাস মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে এই সুগন্ধি মসলাটি অতিথি আপ্যায়ন ও মুখশুদ্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই ছোট্ট মসলাটি মুখের সতেজতা ছাড়াও হজম প্রক্রিয়ায় কোনো বিশেষ সহায়তা করে কি না, তা নিয়ে মানুষের মাঝে নানা কৌতূহল রয়েছে।

এলাচের পরিচিত সুবাসের মূল উৎস হলো এর ভেতরে থাকা অপরিহার্য তেল বা এসেনশিয়াল অয়েল। এর মধ্যে সিনিওল এবং টারপিনাইল অ্যাসিটেটের মতো কিছু সুগন্ধি যৌগ থাকে যা এলাচের জাত ও সংরক্ষণের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে ভারী খাবারের পর পেট ফাঁপা বা গ্যাস কমানোর জন্য এলাচ খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। পরীক্ষাগারে এর কিছু প্রাকৃতিক যৌগের সম্ভাব্য হজম-সহায়ক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এলাচের বীজ চিবানোর সময় মুখে লালা নিঃসরণ বাড়ে যা খাবার গিলতে এবং অম্লতা কমাতে সহায়তা করে। পরীক্ষাগারে এর যৌগের মাধ্যমে পেশি শিথিল করার কিছু ইতিবাচক দিক দেখা গেলেও মানুষের শরীরে এর সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা এখনো নিশ্চিত নয়। তাছাড়া, বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যায় এলাচ কোনো নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা হতে পারে না। এসব শারীরিক সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

রান্নায় ব্যবহৃত এলাচ আর এর ঘনীভূত এসেনশিয়াল অয়েল সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় হওয়ায় না জেনে নির্যাস খাওয়া উচিত নয়। হজম ঠিক রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর ভরসা না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা প্রয়োজন। এলাচের প্রাকৃতিক যৌগ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা চলমান রয়েছে। তাই মুখের স্বাদ ও সতেজতার জন্য খাবার শেষে এলাচ চিবানো গেলেও একে কোনো রোগের স্থায়ী চিকিৎসা ভাবার সুযোগ নেই।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ, ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল

খাবার শেষে এলাচ: মুখের সতেজতা, নাকি হজমেও উপকারী?

প্রকাশিত ০৭:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ভারী বা মসলাদার খাবারের পর মুখ সতেজ করতে একটি এলাচ চিবানোর প্রচলন বেশ পুরোনো। বিরিয়ানি বা কাবাবের মতো খাবার খাওয়ার পর এলাচের সুবাস মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে এই সুগন্ধি মসলাটি অতিথি আপ্যায়ন ও মুখশুদ্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই ছোট্ট মসলাটি মুখের সতেজতা ছাড়াও হজম প্রক্রিয়ায় কোনো বিশেষ সহায়তা করে কি না, তা নিয়ে মানুষের মাঝে নানা কৌতূহল রয়েছে।

এলাচের পরিচিত সুবাসের মূল উৎস হলো এর ভেতরে থাকা অপরিহার্য তেল বা এসেনশিয়াল অয়েল। এর মধ্যে সিনিওল এবং টারপিনাইল অ্যাসিটেটের মতো কিছু সুগন্ধি যৌগ থাকে যা এলাচের জাত ও সংরক্ষণের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে ভারী খাবারের পর পেট ফাঁপা বা গ্যাস কমানোর জন্য এলাচ খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। পরীক্ষাগারে এর কিছু প্রাকৃতিক যৌগের সম্ভাব্য হজম-সহায়ক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এলাচের বীজ চিবানোর সময় মুখে লালা নিঃসরণ বাড়ে যা খাবার গিলতে এবং অম্লতা কমাতে সহায়তা করে। পরীক্ষাগারে এর যৌগের মাধ্যমে পেশি শিথিল করার কিছু ইতিবাচক দিক দেখা গেলেও মানুষের শরীরে এর সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা এখনো নিশ্চিত নয়। তাছাড়া, বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যায় এলাচ কোনো নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা হতে পারে না। এসব শারীরিক সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

রান্নায় ব্যবহৃত এলাচ আর এর ঘনীভূত এসেনশিয়াল অয়েল সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় হওয়ায় না জেনে নির্যাস খাওয়া উচিত নয়। হজম ঠিক রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর ভরসা না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা প্রয়োজন। এলাচের প্রাকৃতিক যৌগ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা চলমান রয়েছে। তাই মুখের স্বাদ ও সতেজতার জন্য খাবার শেষে এলাচ চিবানো গেলেও একে কোনো রোগের স্থায়ী চিকিৎসা ভাবার সুযোগ নেই।