ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

‘ডুমজবিং’: অপছন্দের চাকরিতে আটকে থাকার অদৃশ্য ফাঁদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বর্তমান কর্মক্ষেত্রের বিরক্তি ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে বাছবিচার ছাড়াই একের পর এক চাকরির আবেদন করার প্রবণতাকে ‘ডুমজবিং’ বলা হচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা এবং যাচাই না করেই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর এই অভ্যাস উল্টো হতাশা ও আত্মবিশ্বাসহীনতা বাড়িয়ে তোলে। বাইরে থেকে অনেক আবেদন পাঠানো মানেই সুযোগ বাড়ার মতো মনে হলেও, এটি মূলত সময় ও শক্তির অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ট্যালেন্ট ট্রিহাউস’-এর প্রধান নির্বাহী গোল্ডা ইনকুইটো রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই অবস্থাকে এক হতাশাজনক চক্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো উত্তর না পেলে মানুষ কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছে সেটাই ভুলে যায় এবং অগ্রগতির অনুভূতি তৈরি হয় না। এছাড়া ‘ইনেট পাওয়ার এলএলসি’-এর প্রধান নির্বাহী নিকোল জনস্টন উল্লেখ করেছেন যে, বারবার সাড়া না পেলে নিজের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন জাগে এবং পরিবর্তনের ভয় তৈরি হয়।

নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল নেই এমন পদে বারবার আবেদন করার কারণে নিয়োগদাতার নজরে আসার সম্ভাবনা কমে যায়। ফলে উপযুক্ত চাকরির জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয় এবং শুধু আবেদনসংখ্যা বাড়ানোই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে বেতন বাড়ানোর আলোচনা বা নতুন দক্ষতা অর্জনের মতো বিষয়গুলো পেছনে পড়ে যায়।

এই লক্ষ্যহীন আবেদনের চক্র ভাঙার জন্য বিশেষজ্ঞরা সুনির্দিষ্ট কিছু পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমে নিজের লক্ষ্য স্থির করা জরুরি, অর্থাৎ কী ধরনের কাজ ও পরিবেশে কাজ করতে হবে তা স্পষ্ট করতে হবে। এছাড়া একই জীবনবৃত্তান্ত সব জায়গায় না পাঠিয়ে নির্দিষ্ট পদের চাহিদা অনুযায়ী তা সাজাতে হবে এবং বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য সারাদিনের বদলে দিনে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচটি উপযুক্ত চাকরিতে আবেদন করার পাশাপাশি পেশাগত যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। শুধু বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর না করে পরিচিত সহকর্মী বা একই পেশার মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে নতুন সুযোগ পাওয়ার পথ সহজ হতে পারে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও পরিমিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল এই ক্লান্তিকর চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

জনপ্রিয়

ইশরাকের বিষয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

‘ডুমজবিং’: অপছন্দের চাকরিতে আটকে থাকার অদৃশ্য ফাঁদ

প্রকাশিত ১২:২২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বর্তমান কর্মক্ষেত্রের বিরক্তি ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে বাছবিচার ছাড়াই একের পর এক চাকরির আবেদন করার প্রবণতাকে ‘ডুমজবিং’ বলা হচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা এবং যাচাই না করেই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর এই অভ্যাস উল্টো হতাশা ও আত্মবিশ্বাসহীনতা বাড়িয়ে তোলে। বাইরে থেকে অনেক আবেদন পাঠানো মানেই সুযোগ বাড়ার মতো মনে হলেও, এটি মূলত সময় ও শক্তির অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ট্যালেন্ট ট্রিহাউস’-এর প্রধান নির্বাহী গোল্ডা ইনকুইটো রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই অবস্থাকে এক হতাশাজনক চক্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো উত্তর না পেলে মানুষ কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছে সেটাই ভুলে যায় এবং অগ্রগতির অনুভূতি তৈরি হয় না। এছাড়া ‘ইনেট পাওয়ার এলএলসি’-এর প্রধান নির্বাহী নিকোল জনস্টন উল্লেখ করেছেন যে, বারবার সাড়া না পেলে নিজের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন জাগে এবং পরিবর্তনের ভয় তৈরি হয়।

নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল নেই এমন পদে বারবার আবেদন করার কারণে নিয়োগদাতার নজরে আসার সম্ভাবনা কমে যায়। ফলে উপযুক্ত চাকরির জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয় এবং শুধু আবেদনসংখ্যা বাড়ানোই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে বেতন বাড়ানোর আলোচনা বা নতুন দক্ষতা অর্জনের মতো বিষয়গুলো পেছনে পড়ে যায়।

এই লক্ষ্যহীন আবেদনের চক্র ভাঙার জন্য বিশেষজ্ঞরা সুনির্দিষ্ট কিছু পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমে নিজের লক্ষ্য স্থির করা জরুরি, অর্থাৎ কী ধরনের কাজ ও পরিবেশে কাজ করতে হবে তা স্পষ্ট করতে হবে। এছাড়া একই জীবনবৃত্তান্ত সব জায়গায় না পাঠিয়ে নির্দিষ্ট পদের চাহিদা অনুযায়ী তা সাজাতে হবে এবং বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য সারাদিনের বদলে দিনে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচটি উপযুক্ত চাকরিতে আবেদন করার পাশাপাশি পেশাগত যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। শুধু বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর না করে পরিচিত সহকর্মী বা একই পেশার মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে নতুন সুযোগ পাওয়ার পথ সহজ হতে পারে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও পরিমিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল এই ক্লান্তিকর চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।