ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বাদাম চাষে ঝুঁকছেন পঞ্চগড়ের কৃষক, কাজ পাচ্ছেন বেকাররা

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: ভৌগোলিক অবস্থান ও মাটিতে পাথরের আধিক্যের কারণে পঞ্চগড়ের কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে লাভজনক বিকল্প চাষাবাদ শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজির পাশাপাশি বর্তমানে উচ্চ ফলনশীল বাদাম চাষে ঝুঁকছেন প্রান্তিক চাষিরা। দেবীগঞ্জ, বোদা এবং সদর উপজেলায় ব্যাপকভাবে এই ফসলের আবাদ হওয়ায় কৃষি খাতে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে এবং স্থানীয় আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ করা হয়েছে।

স্থানীয় চাষিদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ করতে প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ হয় এবং এক বিঘা থেকে প্রায় ১০ মণ ফলন পাওয়া যায়। আকারে আকর্ষণীয় হওয়ায় প্রতি মণ বাদাম সাড়ে চার হাজার টাকা পাইকারি মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হয়। উৎপাদিত বাদামের সন্তোষজনক দাম পেলেও সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ, সরকারি আর্থিক সহায়তা এবং সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা রয়েছে। তা সত্ত্বেও স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা অর্জনের এই মাধ্যমটি চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে। কৃষিবিদরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজার নিশ্চিত করা গেলে এই বাদাম চাষ কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এদিকে বাদাম চাষের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে ওঠা প্রসেসিং মিলগুলোর কারণে এলাকার বেকার নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পঞ্চগড় জেলায় ব্যক্তি মালিকানায় বর্তমানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বাদাম মিল চালু রয়েছে যেখান থেকে প্রক্রিয়াজাত বাদাম দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়। মিলগুলোতে কাজ করে শ্রমিকরা জীবিকা নির্বাহ করলেও নারী শ্রমিকরা কিছুটা মজুরি বৈষম্যের শিকার হন বলে জানা গেছে। তবে ঘরের কাজের পাশাপাশি মিলে কাজ করে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় করতে পেরে নারীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মিল মালিকদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া হলে তারা আরও বেশি বেকারের কর্মসংস্থান করতে পারবেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পঞ্চগড়ের বাদাম চাষ এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ইতোমধ্যে সরকার দেবীগঞ্জ এলাকাকে অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করায় জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রযুক্তিগত ধারণা প্রদান, ঋণ সুবিধা এবং সুসংহত বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পঞ্চগড়ের বাদাম চাষ গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

জনপ্রিয়

৬ ইংলিশ ক্লাবের কাছ থেকে সুপার লিগের খরচ চায় রেয়াল মাদ্রিদ

বাদাম চাষে ঝুঁকছেন পঞ্চগড়ের কৃষক, কাজ পাচ্ছেন বেকাররা

প্রকাশিত ১০:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: ভৌগোলিক অবস্থান ও মাটিতে পাথরের আধিক্যের কারণে পঞ্চগড়ের কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে লাভজনক বিকল্প চাষাবাদ শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজির পাশাপাশি বর্তমানে উচ্চ ফলনশীল বাদাম চাষে ঝুঁকছেন প্রান্তিক চাষিরা। দেবীগঞ্জ, বোদা এবং সদর উপজেলায় ব্যাপকভাবে এই ফসলের আবাদ হওয়ায় কৃষি খাতে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে এবং স্থানীয় আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ করা হয়েছে।

স্থানীয় চাষিদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ করতে প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ হয় এবং এক বিঘা থেকে প্রায় ১০ মণ ফলন পাওয়া যায়। আকারে আকর্ষণীয় হওয়ায় প্রতি মণ বাদাম সাড়ে চার হাজার টাকা পাইকারি মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হয়। উৎপাদিত বাদামের সন্তোষজনক দাম পেলেও সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ, সরকারি আর্থিক সহায়তা এবং সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা রয়েছে। তা সত্ত্বেও স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা অর্জনের এই মাধ্যমটি চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে। কৃষিবিদরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজার নিশ্চিত করা গেলে এই বাদাম চাষ কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এদিকে বাদাম চাষের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে ওঠা প্রসেসিং মিলগুলোর কারণে এলাকার বেকার নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পঞ্চগড় জেলায় ব্যক্তি মালিকানায় বর্তমানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বাদাম মিল চালু রয়েছে যেখান থেকে প্রক্রিয়াজাত বাদাম দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়। মিলগুলোতে কাজ করে শ্রমিকরা জীবিকা নির্বাহ করলেও নারী শ্রমিকরা কিছুটা মজুরি বৈষম্যের শিকার হন বলে জানা গেছে। তবে ঘরের কাজের পাশাপাশি মিলে কাজ করে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় করতে পেরে নারীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মিল মালিকদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া হলে তারা আরও বেশি বেকারের কর্মসংস্থান করতে পারবেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পঞ্চগড়ের বাদাম চাষ এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ইতোমধ্যে সরকার দেবীগঞ্জ এলাকাকে অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করায় জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রযুক্তিগত ধারণা প্রদান, ঋণ সুবিধা এবং সুসংহত বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পঞ্চগড়ের বাদাম চাষ গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।