পর্যটন ডেস্ক: খাগড়াছড়ির সবুজ পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা রিছাং ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে একটি চমৎকার গন্তব্য। মারমা ভাষায় ‘রি’ অর্থ পানি এবং ‘সাং’ অর্থ লাফিয়ে পড়া, অর্থাৎ উঁচু স্থান থেকে পানি লাফিয়ে পড়ার এই স্থানটি ২০০২ সালের দিকে ভ্রমণপিপাসুদের নজরে আসে। স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাছে ঝরনাটি ‘তেরাং তৈকালাই’ নামে পরিচিত। পাহাড়ের বুক বেয়ে প্রায় ১৫০ ফুট ওপর থেকে নিচে আছড়ে পড়া জলরাশি এবং এর শীতল পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
কাজের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি দূর করতে ছুটির দিনে সহকর্মীদের নিয়ে এই ঝরনা দেখার অভিযান শুরু করেছিলেন এক ভ্রমণকারী। পাহাড়ি পথ ধরে এগোতে দেখা যায় সবুজ পাহাড়, জুমঘর, পাহাড়ি জনপদের জীবনযাপন এবং নাম না জানা বুনোফুল। গাড়ি থেকে নেমে প্রায় ২৫০ ধাপের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার সময় পানির কলতান কানে আসে। প্রথম ঝরনা দেখে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে সামান্য এগোলেই দেখা মেলে দ্বিতীয় আরেকটি ঝরনার।
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বাসে চড়ে খাগড়াছড়িতে যাওয়া সম্ভব। খাগড়াছড়ি শহর বা মাটিরাঙা থেকে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোহরিকশা, মাইক্রোবাস কিংবা জিপ ভাড়া করে ঝরনার প্রবেশপথে যাওয়া যায়। পর্যটকদের থাকার জন্য শহরে চেঙ্গী নদীর তীরে পর্যটন মোটেল ছাড়াও হোটেল গাইরিং, অরণ্য বিলাস ও হিল টাচের মতো বিভিন্ন মানের আবাসন রয়েছে। যাওয়ার পূর্বে আবাসনের বর্তমান অবস্থা ও বুকিংয়ের তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।
শহরের যান্ত্রিকতা ও কাজের একঘেয়েমি থেকে দূরে রিছাং ঝরনার চারপাশের সবুজ বিস্তার ও পানির অবিরাম শব্দ ভ্রমণকারীদের মানসিক শান্তি দেয়। অনেক সময় দূরের গন্তব্যে না ছুটে হাতের কাছে থাকা এমন প্রকৃতির সান্নিধ্যেই ক্লান্তি ভুলে থাকা সম্ভব। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার এক সুন্দর আমন্ত্রণ জানান দেয় এই পাহাড়ি জলপ্রপাত।







































