সারাদেশ ডেস্ক: ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পলো হাতে জলাশয়ে নেমে পড়েন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নানা বয়সী মানুষ। গত অক্টোবরের শেষের দিকে ঘিওর উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় ও নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরার ধুম পড়ে। কারও পলোতে বোয়াল, শোল কিংবা রুই মাছ ধরা পড়ে, আবার অনেকেই খালি হাতে ফিরে যান। মাছ শিকারের এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি স্থানীয়দের জন্য এক আনন্দ উৎসব ও মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তরা, মির্জাপুর ও রাথুরা চকের জলাশয়ে শতাধিক শৌখিন মৎস্যশিকারি পলো দিয়ে মাছ শিকারে অংশ নেন। এছাড়া ইছামতী শাখা নদীতে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পলো বাইচের আসরে অন্তত তিনশো শিকারি যোগ দেন। ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের খবর ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং বা ঢাকঢোল পেটানো হয়। খবর পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ পলো নিয়ে নির্ধারিত স্থানে হাজির হন।
অংশগ্রহণকারী নূরুল করিম বাবু জানান, পলো বাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাছ শিকারের উৎসব যা মানুষের মাঝে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। আরেক মাছশিকারি ইসলাম খান উল্লেখ করেন, এখানে মাছ পাওয়ার চেয়ে বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং একসঙ্গে আনন্দ করার বিষয়টিই বেশি উপভোগ্য। প্রবীণ বাসিন্দা বারেক মিয়া ও কৃষিকেন্দ্রের পরিচালক দেলোয়ার জাহান মনে করেন, গ্রামীণ এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে জলাশয় ও দেশি মাছ রক্ষা করা জরুরি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবেশকর্মীদের মতে, কারেন্ট জালের ব্যবহার, পোনা মাছ ধরা, জলাশয় সেচে মাছ নিধন এবং বিষপ্রয়োগের কারণে দেশি মাছের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য দিন দিন কমে যাচ্ছে। বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিলটু ও বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল আলম রওশন জানান, ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়ও পলো বাইচ রক্ষায় জলাশয় ও দেশি মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।





































