ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

টিউশনির টাকা জমিয়ে কম্পিউটার কেনা অনুপ এখন সফল ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা

ডেস্ক রিপোর্ট: অভাবের সংসার থেকে উঠে এসে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের জোরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন শরীয়তপুরের তরুণ অনুপ কুমার রায়। পড়াশোনা ও পরিবারের খরচ চালাতে একসময় যিনি নিয়মিত টিউশনি করতেন, আজ তিনি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্কের শীর্ষ রেটেড ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং করে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার বা কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন এই তরুণ। কাজের পরিধি বড় হওয়ায় নিজ জেলায় একটি অফিস চালু করে সেখানে সাতজন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছেন তিনি।

অসিত বরণ রায় ও পদ্মা রাণী রায়ের একমাত্র সন্তান অনুপের জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে বাবার চাকরির সুবাদে বান্দরবান জেলায়। তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাসের পর জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অনার্স এবং পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ২০১৬ সাল থেকে টিউশনি ও কোচিংয়ে পড়ানো শুরু করেন, যা তাঁকে সময়ের মূল্য ও কঠোর পরিশ্রমের শিক্ষা দেয়। ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও একসঙ্গে সত্তর হাজার টাকা দিয়ে কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য তাঁর ছিল না।

টিউশনির জমানো ৩৫ হাজার টাকার সঙ্গে মা ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করা বাকি ৩৫ হাজার টাকা মিলিয়ে প্রথম কম্পিউটারটি কেনেন অনুপ। এরপর বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করে দীর্ঘদিন চেষ্টার পর ২০২২ সালের জুনে প্রথম কাজ পান তিনি। ফাইভারে প্রথম কাজ থেকে কুড়ি ডলার আয় করার পর তিনি আপওয়ার্কে নিজের পরিচিতি বাড়ান এবং লিংকডইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেন। প্রথম থেকেই আয়ের বড় অংশ মায়ের হাতে তুলে দেওয়া অনুপ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন।

বর্তমানে ফাইভার ও আপওয়ার্কে পেইড মিডিয়া, গুগলের বিজ্ঞাপন পরিচালনা এবং কনভার্সন ট্র্যাকিংয়ের কাজ করে তাঁর মাসিক আয় তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা। কাজের পরিধি বাড়ায় নিজ জেলা শরীয়তপুরে অফিস স্থাপন করে সেখানে পেইড মিডিয়া ও ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে সাতজন তরুণকে যুক্ত করেছেন তিনি। নতুনদের উদ্দেশে অনুপ জানান যে, ফ্রিল্যান্সিং রাতারাতি ধনী হওয়ার পথ নয়, বরং এর জন্য এক থেকে দেড় বছর নিয়মিত শেখা ও অনুশীলনের মানসিকতা থাকতে হবে। সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেও যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, তাঁর জীবন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

জনপ্রিয়

পর্যটন করপোরেশনের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পাঁচ কোর্স, ভর্তি ফি–আবেদনের যোগ্যতা কী

টিউশনির টাকা জমিয়ে কম্পিউটার কেনা অনুপ এখন সফল ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা

প্রকাশিত ০৮:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: অভাবের সংসার থেকে উঠে এসে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের জোরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন শরীয়তপুরের তরুণ অনুপ কুমার রায়। পড়াশোনা ও পরিবারের খরচ চালাতে একসময় যিনি নিয়মিত টিউশনি করতেন, আজ তিনি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্কের শীর্ষ রেটেড ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং করে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার বা কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন এই তরুণ। কাজের পরিধি বড় হওয়ায় নিজ জেলায় একটি অফিস চালু করে সেখানে সাতজন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছেন তিনি।

অসিত বরণ রায় ও পদ্মা রাণী রায়ের একমাত্র সন্তান অনুপের জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে বাবার চাকরির সুবাদে বান্দরবান জেলায়। তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাসের পর জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অনার্স এবং পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ২০১৬ সাল থেকে টিউশনি ও কোচিংয়ে পড়ানো শুরু করেন, যা তাঁকে সময়ের মূল্য ও কঠোর পরিশ্রমের শিক্ষা দেয়। ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও একসঙ্গে সত্তর হাজার টাকা দিয়ে কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য তাঁর ছিল না।

টিউশনির জমানো ৩৫ হাজার টাকার সঙ্গে মা ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করা বাকি ৩৫ হাজার টাকা মিলিয়ে প্রথম কম্পিউটারটি কেনেন অনুপ। এরপর বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করে দীর্ঘদিন চেষ্টার পর ২০২২ সালের জুনে প্রথম কাজ পান তিনি। ফাইভারে প্রথম কাজ থেকে কুড়ি ডলার আয় করার পর তিনি আপওয়ার্কে নিজের পরিচিতি বাড়ান এবং লিংকডইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেন। প্রথম থেকেই আয়ের বড় অংশ মায়ের হাতে তুলে দেওয়া অনুপ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন।

বর্তমানে ফাইভার ও আপওয়ার্কে পেইড মিডিয়া, গুগলের বিজ্ঞাপন পরিচালনা এবং কনভার্সন ট্র্যাকিংয়ের কাজ করে তাঁর মাসিক আয় তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা। কাজের পরিধি বাড়ায় নিজ জেলা শরীয়তপুরে অফিস স্থাপন করে সেখানে পেইড মিডিয়া ও ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে সাতজন তরুণকে যুক্ত করেছেন তিনি। নতুনদের উদ্দেশে অনুপ জানান যে, ফ্রিল্যান্সিং রাতারাতি ধনী হওয়ার পথ নয়, বরং এর জন্য এক থেকে দেড় বছর নিয়মিত শেখা ও অনুশীলনের মানসিকতা থাকতে হবে। সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেও যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, তাঁর জীবন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।